• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

যেমন আছেন ‘সেই’ জজ মিয়া

প্রকাশ:  ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

২০০৪ সালের বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে সাজানো নাটকের মূল চরিত্র জজ মিয়া। তিনি এখন কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কী করছেন? ২১ আগস্ট এলে অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। তার উত্তরে এভাবেই নিজের কথা বলছিলেন জজ মিয়া।সম্প্রতি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে জজ মিয়া বলেন, তার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ , প্রতি সপ্তাহে লাগে চার হাজার টাকার ওষুধ। অসহায় অবস্থায় তিনি নানাভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিয়ে পেয়েছেন আশ্বাস, তবে বাস্তবে তার কোনো কিছুই মেলাতে পারেননি। এভাবেই তার কস্টের কথা জানান জজ মিয়া ।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মৌচাক এলাকার একটি টিনসেড বাড়িতে দুই রুম নিয়ে বৃদ্ধা মা, ছোট বোন ও ছোট ভাইকে নিয়ে জালাল উদ্দীন ড্রাইভার ওরফে জজ মিয়া বসবাস করছেন। যদিও মাস ৩ আগে তিনি বসবাস করতেন রাজধানীর কদমতলী থানার রায়েরবাগ এলাকায়।

তিনি বলেন, আমি বর্তমানে কিস্তিতে একটি পুরনো প্রাইভেটকার কিনে নিজেই ড্রাইভিং করে সংসার চালাই। নামের কারণে আমি সবার কাছে হাসি-তামাশার পাত্র। তাই আমার কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতেও চায় না। বছর দুই আগে চাঁদপুরে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পরে আমার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন যখন জানতে পারেন আমিই সেই ‘জজ মিয়া’ তখন আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে যায়। তিনি আরো বলেন, সত্যি কোনো দিনই চাপা থাকে না। যারা আমাকে আসামি করেছিল তারাই এখন সত্যিকারের আসামি হয়েছে। আল্লাহ্ তাদের বিচার করছে।

জজ মিয়া বলেন, ২০০৫ সালের ৯ জুন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগের একটি চায়ের দোকান থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় সেনবাগ থানায়। সেখানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ভিডিও চিত্র দেখিয়ে বলেন, তুই এই ভিডিও ভালোভাবে দেখ। আমরা যাদের নাম বলবো সেই সব নাম মুখস্থ করে আদালতে বলবি তাদের নির্দেশে তুই এই হামলা চালিয়েছিস। যদি না বলিস তা হলে তোকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হবে। তোর পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হবে। আর বললে তোর পরিবারকে মাসোহারা দেওয়া হবে, তোর ভাই-বোনদের চাকরি দেওয়া হবে, জেল থেকে বের করে তোকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে আমাকে একটানা ৪ বছর ২৬ দিন হাতে-পায়ে বেড়ি পরা অবস্থায় কনডেম সেলের অন্ধকার কুঠুরিতে থাকতে হয়েছিল।

আরও বলেন, আমাকে তো বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় সন্ত্রাসী বানানো হয়েছিল। এখন তো কোনো জায়গায় চাকরির জন্য গেলেও কেউ আমাকে চাকরি দেয় না। আসল পরিচয় পেলে মানুষ যে কেবল কাজ দেয় না তাই-ই নয়, কোনো মেয়েকে বিয়েও দিতে চায় না বাবা-মা। অনেক কষ্টে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বছর খানেক আগে একটা বিয়ে করেছিলেন জজ মিয়া। কিন্তু সে সংসার টেকেনি। পরিচয় জানার পরে বিয়ের তিন-চার মাসের মাথাতেই সেই বউয়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জজ মিয়া বলেন, পরিচয় গোপন রেখে অনেক কষ্টে বিয়ে করেছিলাম। কত দিন আর গোপন থাকে বলেন। পরিচয় ও মামলার কথা জানার পরে আমার শ্বশুর বলল, আমার মেয়ে আমি নিয়ে যাব। তখনই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। সবাই মনে করে সরকার পরিবর্তন হলে আমাকে আবার জেলে যেতে হবে।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে সেই গ্রেনেড হামলায় দলটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী। জজ মিয়ার প্রত্যাশা- এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের যেন বিচার হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনা তো আমার জীবন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছেই। কিন্তু এতে অনেকেই নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন। আমি চাই, এর জন্য যারা দায়ী তাদের যেন বিচার হয়। /পি আর

জজ মিয়া,২১ আগস্ট,গ্রেনেড