• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

পশুর হাটে লোকসমাগম, রাতে বাড়ছে বিকি-কিনি

প্রকাশ:  ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫১ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫৪
ওমর ফারুক
প্রিন্ট

রাজধানীর সকল পশুর হাটগুলো বেশ জমজমাট থাকলেও দিনের বেলায় বেচা-কেনা অনেক কম, কিন্তু রাতেই বাড়ছে বিক্রি। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসায় বেপারিদের পশু বিক্রি বাড়তে আরম্ভ করছে আর ক্রেতারাও পশু ক্রয়ের ঝামেলা সমাপ্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা বেশি দামেই পশু বিক্রি করছে। আর বেপারিদের দাবি, পশুর খাবার থেকে আরম্ভ করে সকল প্রকার জিনিসসহ যেমন, খাদ্য, ওষুধ, পরিবহন ও লালন-পালনের খরচ বেশি হওয়ায় পশুর দাম বেশি পড়ছে। তাই আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যেই দাম রেখে পশু বিক্রি করছি।

বেপারিরা বলেন, ক্রয়ের তুলনায় যদি বিক্রিতে লাভ কম হয় তাহলে আমাদের পোষাবে না। কারণ পশুর যত্নের পেছনে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তাই আমরা ন্যায্য মূল্য হিসেব করেই পশু বিক্রি করবো।

রাজধানীর কমলাপুরের শাহজাহানপুর, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকেটি পশুর হাট ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দেখা গেছে রাজধানীতে মোট ২৫টি স্থানে পশুরহাট বসেছে। হাটে ঢোকার পথে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা গরু, ছাগল ও মহিষের শারীরিক পরীক্ষা করছেন।

পরিবারের দুই ছেলেকে নিয়ে শাহজাহানপুর পশুর হাটে গরু ক্রয় করতে আসা বেসরকারি চাকুরীজীবী আরিফুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি পূর্বপশ্চিমকে জানান, নিজের দুই ছেলেকে নিয়ে পশু কিনতে আসছি। আমার থেকেও আমার ছেলেরা ভালো দামে গরু কিনতে পারবে তাই তাদের ওপর ভরসা করেই হাটে উপস্থিত হলাম। বেশ কিছু পশু পছন্দ হলেও এখনো কিনতে পারিনি কারণ বেপারিরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছে। গত বছর যে গরু ৪৫ হাজার টাকায় কিনেছি এ বছরে সে গরুর দাম ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বেশি দাম নির্ধারণ করেই পশু বিক্রি করছেন বেপারিরা। তবে আশা করছি এবার ৫৫ হাজার টাকার ভিতরে রাতেই একটি পশু ক্রয় করেই বাসায় ফিরবো।

অন্যদিকে আরিফুলের ছেলে আসিফ খান জানান, বাবার সাথে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কোরবানির পশু ক্রয় করতে হাটে আসলাম। তবে আমরা বাবার পছন্দ মতই পশু কিনবো। দাম বেশি হলেও বাবার পছন্দটাকেই আমরা বেশি প্রাধান্য দিবো। বাজেট অনুযায়ী রুচিশীল ও সুন্দর পশু কিনবো।

অন্যদিকে, একই হাটে দুই ছেলেকে নিয়ে এসেছেন আলী আকবর। তিনিও হাট ঘুরে পশু পছন্দ করছে এবং দাম কষাকষি করছেন কিন্তু দামে বনাবনি না হতে গরু কিনতে পারছেন না। তিনি এ প্রতিবেদককের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বেপারিরা গরুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছে, বাজার দেখে শুনে সুন্দর পশু ক্রয় করবো এবং প্রয়োজনে শেষ দিনে পশু কিনবো।

এরকম আরও অনেকেই পশুর হাটে আসছেন, গরু দেখছেন, দরদাম যাচাই বাছাই করছেন। তারা পরে কিনবেন। এছাড়া ৪/৫ জনের গ্রুপ করে অনেক কিশোর গরু দেখতে এসেছে বাজারে। তারা ঘুরছে পশু দেখছে, দরদাম শুনছে।

এদিকে আলিম আলী নামক এক বেপারি লালমনিরহাট থেকে ট্রাক বোঝাই গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন শাহজাহানপুর পশুরহাটে। তিনি ৫টি গরু নিয়ে ঢাকাতে আসেন। ঢাকাতে আসতে প্রায় দেয় দিনের মত সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, রাস্তার পাশে ট্রাকে বসে বসে গরুর যত্ন নিয়েছি, তাদের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছি বললেই চলে। কম দামে বিক্রি করলে আমাদের পোষাবে না। কারণ এ পশুর পিছনে অনেক ঘাটনি হয়েছে। রাতদিন তাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ক্রেতারা অভিযোগ করছেন আমরা পশুর দাম বেশি চাচ্ছি কিন্তু আমরা আমাদের পারিশ্রমিক অনুযায়ী পশুর ন্যায্য মূল্যটাই চাচ্ছি। কারণ ঢাকাতে আসা-যাওয়া, পশুর খাবার বহন করা, লেবার কস্ট, ট্রাক ভাড়া সব মিলিয়ে অনেক খরচ পড়ে আমাদের। গতবছর ৬৫ হাজার টাকার যে গরু বিক্রি করেছি তেমন গরু এ বছর ১০ হাজার টাকা বেশি হতেই পারে। কারণ এটা আমাদের প্রাপ্য।

দিনাজপুর থেকে আসা আরেক গরু ব্যবসায়ী আলম পূর্বপশ্চিমকে জানান, ঢাকাতে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে পশুর হাটগুলো বেশ জমজমাট হলেও বেচাকেনাও চলছে। রাত হতেই বিক্রিও বেড়েছে। হয়তো কাল বা পরশু পুরাদমে বিক্রি বাড়বে। আমি ঢাকাতে ৮টি গরু এনেছি। রাতে একটি গরু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। আরো ৭টি গরু রয়েছে আশা করছি ২ দিনের ভিতরে সবগুলো বিক্রি করে নিজের ঠিকানায় যেতে পারবো।

মতিঝিল হাটের এক ইজারাদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাতেই বেশি পশু বিক্রি হচ্ছে এবং এখনো অনেক স্থান থেকেই ট্রাক বোঝাই গরু আসতেছে। তাছাড়াও পশুতে হাটের নির্ধারিত স্থান ছাড়িয়েও গেছে। হাটে বেপারিদের থাকা খাওয়া, পানি, গোসল, গরুর খাবারসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর সবগুলো পশুরহাট সিসি ক্যামেরা আওতাধীন রয়েছে। তাছাড়াও জালটাকা সনাক্তের মেশিন বসানো, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিজেদের উদ্যোগে চিকিৎসক নিয়ে আসা এবং গরুর প্রাথমিক চিকিৎসার টাকা হাট কর্তৃপক্ষ বহন করছে। তাছাড়ও মাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বেপারিদের বিভিন্ন দিক নির্দেশানও দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকায় মোট ২৫টি পশুর হাট চূড়ান্ত করেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন(ডিএসসিসি) এলাকায় মোট ১৫টি পশুর হাট চূড়ান্ত হয়েছে। ৭টি ইজারা ও ৮টি খাস বা স্পট ইজারার ভিত্তিতে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়।

ইজারা দেয়া ৭টি হাট হচ্ছে, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, জিগাতলার হাজারীবাগ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুর বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা।

ওএফ

কোরবানির পশুরহাট,বিক্রি,ক্রয়
apps