• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

ট্রেনের ছাদে ঈদযাত্রায় বাধা, বাড়ি যেতে না পারার শঙ্কা

প্রকাশ:  ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১২ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
কমলাপুরে ট্রেনের ছাদ থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। ছবি তুলেছেন নাজমুল হাসান।

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ঘরমুখো মানুষের ভিড় ততই বাড়ছে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে। শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে কমলাপুর ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনেই ছিল উপচে ভিড়। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ছাদে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিবারের মতো আজ আর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রেনের ছাদে ওঠা সব যাত্রীদের নামিয়ে দেয় পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের ছাদে ঝূকিপূর্ণ ভ্রমণ না করতে যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করছে রেলওয়ে পুলিশ। এসময় ছাদে ওঠা সব যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে শেষ পর্যন্ত বাড়ি যেতে না পারার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

ট্রেনের ছাদ থেকে নেমে আসা এক যাত্রী বলেন, সড়ক পথে যানজটের কারণে ট্রেনে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখানেও ভিড়ের কারণে ভেতরে ঢুকতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়েই ছাদে উঠেছিলাম।

আরেক যাত্রী জানান, ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় তিনি ছাদে উঠেছিলেন। এর আগে বেশ কয়েকবার ছাদে যেতে পারলেও এবার পুলিশ নামিয়ে দিয়েছে।

এদিকে, ট্রেনে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে আজও শিডিউল বিপযয়ে পড়েছে একাধিক ট্রেন। শনিবার সকাল থেকে প্রায় প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেন এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেন দেরিতে স্টেশনে পৌঁছানোর কারণে দেরিতে কমলাপুর ছেড়েছে।

দিনের প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন রাজশাহী অভিমুখী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়ে যায় ৭টায়। খুলনা অভিমুখী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়ে যায় সকাল ৮টায়। দিনাজপুর চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৯টা ৪৫ মিনিটেও স্টেশনে দাঁড়ানো ছিলো। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে অপেক্ষমান ছিলো।

অন্যদিকে দিনের প্রথম ঈদ স্পেশাল ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস ৯টা ১৫মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এটা ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছে ১০টা ৫৫ মিনিটে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, মহাসড়কের ভোগান্তি কমাতেই ট্রেনে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত, এখন এখানেও ভোগান্তি।

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলে বলছেন, দ্বিতীয় দিনেই এমন হলে পরবর্তী যাত্রা কেমন হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, কোনো ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে না। তবে ধূমকেতু, সুন্দরবন, নীলসাগর, রংপুর এক্সপ্রেস দেরিতে কমলাপুর স্টেশনে আসায় যাত্রায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করছি যাতে কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হয়।

-একে

ট্রেন,ঈদযাত্রা,কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন