• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

খালেদা জিয়ার মতো বিএনপির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত

প্রকাশ:  ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

বয়স ৭২ হলেও সাবেক বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা এখনও বেশ দৃঢ়। অবশ্য, কয়েক ডজন মামলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার একটি কারাগারে দিনতিপাত করছেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে একটি দাতব্য সংস্থার ২ কোটি ১০ লাখ টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগে তাকে ৫ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় তিনি জামিল পেলেও তার মুক্তি পিছিয়েছে। এই মুহূর্তে দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তার সমর্থকদের বক্তব্য, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জার্মানি-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।

খবরে আরও বলা হয়, সোমবার একটি মানহানি মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেয়েছেন। তবে আরও মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনও কারাগারে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শোচনীয় মনে হলেও, বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতারা এখনও আশাবাদী যে তিনি মুক্তি পাবেন। অংশ নেবেন এই বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘বেশিরভাগ মামলাতেই তিনি (খালেদা জিয়া) জামিন পেয়েছেন। তবে ঢাকার বাইরে দুটি আদালতে তিনটি মামলা এখনও বিচারাধীন আছে। এই তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী।’

খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?

মওদুদ আহমেদ বলেছেন, নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় ‘অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব’ করা হচ্ছে। তার বক্তব্য, সরকার চায় না খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিন। এছাড়া তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিক বিধিনিষেধেরও আওতাধীন। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে, কেউ ‘অনৈতিক অপরাধে’ দন্ডিত হলে অন্তত দুই বছর নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, হাই কোর্ট চাইলে এই দন্ড বাতিল করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

মওদুদ আহমেদ বলেন, এমনও নজির রয়েছে যে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিবিশেষ নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাষ্য, ‘যদি একজন দন্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, তাহলে কীভাবে কোনো কোনো মন্ত্রী ও এমপি এই সরকারে দায়িত্ব পালন করেছে? আইন সকলের জন্য সমান হওয়া উচিৎ।’

বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তার ভাষ্য, ‘আগামী দুই-তিন মাসে কী ঘটে তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করবে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। আর ক্রমেই জটিলতর হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, ‘যেই গতিতে তার বিরুদ্ধে মামলা এগোচ্ছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, এগুলো নির্বাচনের পর পর্যন্ত গড়াবে।’

ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারঃ

খালেদা জিয়া প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ১৯৯১ সালে। ১৯৯০ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটলে বিএনপি সরকার গঠন করে। তখন থেকেই খালেদা জিয়া ও বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতা শুরু হয় শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের। দু’ জনের মধ্যেও তিক্ততা বেশ তীব্র। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। দলটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। বিএনপি সমর্থকরা অবশ্য সহিংস বিক্ষোভের কারণে সমালোচিত হয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিরোধী নেতাদের ওপর দমনপীড়ন চালানোর।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএনপির ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা ছিল রাজনৈতিক ভুল। যা বিএনপির তৃণমূলে হতাশার জন্ম দেয়। বিশ্লেষক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার মতো বিএনপির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থাও ভালো নয়। এমাজউদ্দিন বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী, খালেদা যদি মামলায় হেরে যান ও কারান্তরীণ থাকেন আরও দুই বছর, তাহলে তিনি পরবর্তী পাঁচ বছর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক। আমি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গভীর অনিশ্চয়তা দেখতে পাই।’

apps