• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

দিনাজপুর ৫

আ.লীগে একাধিক, বিএনপিতে একক প্রার্থী

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩৮ | আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৮, ০৯:৪২
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর
প্রিন্ট

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জন সংযোগে ব্যস্ত। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে । আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি দিনাজপুর- ৫। দিনাজপুর জেলার কোথাও তেমন জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা নেই। তবে বিএনপির দাপট আছে আসনটিতে। জামায়াতের ভোটাও আছে।

পার্বতীপুর ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর ৫ এবং জাতীয় সংসদীয় আসন ১০। পাবর্তীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, ফুলবাড়ী উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। পার্বতীপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ২ শত ৯৩ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩ শত ৯২ জন, এই উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬ শত ৮৫ জন । ফুলবাড়ী উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছে ৬৬ হাজার ৮ শত ৭৪ জন, মহিলা ভোটার রয়েছে ৬৬ হাজার ১ শত ৭ জন, এই উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯ শত ৮১ জন। এই আসনে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী মোট ভোটার রয়েছে ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬ শত ৬৬ জন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে প্রার্থী হওয়ার টার্গেট রয়েছে অনেকেরই। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় শুরু করেছেন তৎ্পরতা।

এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী নেতা, বর্তমান এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তাঁর বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলায়। এরই মধ্যে সভা-সমাবেশ করাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন ছয়বারের এই এমপি।

তবে পরিবারের সদস্যদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এমপি ফিজারকে নিয়ে দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও সভা-সমাবেশ করছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে চলছে তাঁদের কমিটি গঠনসহ কর্মী সংগ্রহ করার তৎপরতা। তবে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কারো নাম শোনা যায়নি। জোট হলে বিএনপির বাক্সে ভোট পড়বে জামায়াতের এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

দিনাজপুর -৫ আসন থেকে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ( ১৯৯১) নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ( আওয়ামী লীগ ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আব্দুল ওহাব সরকার ( জাতীয় পার্টি)। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ( ১৯৯৬) নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ( আওয়ামী লীগ ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথী ছিলেন আব্দুল ওহাব সরকার (জাতীয় পার্টি)। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০০১) নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ( আওয়ামী লীগ ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এ.জেড এম. রেজওয়ানুল হক (বিএনপি ) নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ( ২০০৮) নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ( আওয়ামী লীগ ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথী এ,জেড, এম রেজওয়ানুল হক ( বিএনপি) । দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৪) নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ছাড়া অন্যরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দুল আলম শান্ত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মাহমুদুন্নবী চৌধুরী, পার্বতীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. এস এইচ সাজ্জাদ, দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সফেদ আশফাক তুহিন। প্রত্যেকেই মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আলাদাভাবে সভা-সমাবেশ করছেন।

এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক, সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। এ ছাড়া ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা, সাবেক এমপি ও এরশাদ সরকার আমলের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার শিক্ষা উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আলী সরকারও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ আসনে বিএনপি থেকে রেজওয়ান হক মনোনয়ন পাবেন বলে জোর দিয়ে জানায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

অন্যদিকে জাতীয় পাটির (জাপা) মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তরুণ নেতা সোলায়মান সামি। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মাত্র দুইবার ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে নবগঠিত বিএনপি প্রার্থী মনসুর আলী সরকার একবার এ আসনে বিজয়ী হন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্জনের মধ্যে বিজয়ী হন এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

এরপর থেকে টানা এ আসন আওয়ামী লীগেরই দখলে রয়েছে। আর এর মূল নেতৃত্বে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এ পর্যন্ত তিনি ছয়বার এমপি নির্বাচিত হন। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জিতে প্রথমে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪-এর নির্বাচনে জিতে দায়িত্ব নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

তবে ফিজারের পরিবারের লোকজনের কারণে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে নাখোশ দলের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।

ফিজারের বিষয়ে ফুলবাড়ী ও দিনাজপুরের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতে মন্ত্রীর যে সুনাম ছিল, বর্তমানে তা নেই। তাঁর ভাই, স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতার কারণে এমপির সেই সুনাম কিছুটা নষ্ট হয়েছে। এ কারণে তাঁর বিকল্প খোঁজার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের কিছু নেতা। তাঁরা বলছেন, মন্ত্রী গত সাত বছর নেতাকর্মী-সমর্থকদের চেয়ে নিজেকে ও তাঁর পরিবারকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন, যে কারণে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মী মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রার্থী যাঁকেই করা হোক না কেন আওয়ামী লীগ থেকে সে জিতবে। তবে শর্ত হচ্ছে আগে দলের ভেতর থেকে দলীয় কোন্দল নিরসন করতে হবে। অন্যথায় যাঁকেই প্রার্থী করা হোক, দলীয় কোন্দলের কারণে তাঁর পরাজয়ের আশঙ্কাও আছে এবার।

তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করে, নিয়োগ বাণিজ্য, ঠিকাদারি, স্কুল-কলেজ কমিটি, ইনস্যুরেন্স বাণিজ্য অনেক কিছুই এখন ফিজার পরিবারের পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

নিয়োগের বিষয়ে তাঁর স্ত্রী রেহিনা রহমান ময়নাই অর্থ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে দলের মধ্যে। এছাড়া ভাই মুশফিকুর রহমান বাবুলের দাপটে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা। ফিজার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ার পর ফুলবাড়ী উপজেলায় সানরাইজ ও প্রগ্রেসিভ ইনস্যুরেন্সের শাখা খোলেন তাঁর ভাই বাবুল। যেখানে প্রায় প্রতিটি স্কুলের শিক্ষককেই ইনস্যুরেন্স করাতে বাধ্য করা হয়। এভাবে ইনস্যুরেন্স খুলে তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া মন্ত্রীর আরেক ভাই মোহাম্মদ ইমামুল ইসলাম ঠিকাদারির পাশাপাশি স্কুল-কলেজের কমিটি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রীর ভাই বাবুল ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালে এক সঙ্গে ১২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেন। যদিও তিনি এটা অস্বীকার করেন। আর বর্তমানে খয়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে রয়েছেন বাবুল। মন্ত্রীর স্ত্রী ময়না সভাপতির পদে রয়েছেন আমবাড়ী ফাজিল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে। আরেক ভাই এনামুল রয়েছেন রুদ্রানী স্কুল ও রামেশ্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা শহরে কোয়ালিটি ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা। মন্ত্রী সেটাও নিজের নামে করে নিয়েছেন বলে এলাকায় প্রচার আছে।

নতুন মুখের মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘মন্ত্রীর নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত-বিএনপির অনেক নেতা। একসময় যারা জামায়াত করত এমন কয়েকজন এখন তাকে ঘিরে আছে। ’

বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে মাহমুদুন্নবী চৌধুরী বলেন, জামায়াতের কর্মী মো. মবিদুল ইসলামকে ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিতে সহায়তা করেছেন মন্ত্রী নিজেই। একই এলাকার ভাবানীপুর মাদরাসার সুপার জামায়াত নেতা হাসান মাসুদ নাকি এমপির শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়া নবগ্রাম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে জামায়াত সমর্থক মাওলানা নবিউল ইসলামকেও নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, মন্ত্রীর মেয়ের জামাই কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়োগ সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব কথা এখন দিনাজপুর-ফুলবাড়ীর মানুষের মুখে মুখে।

পার্বতীপুর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের তৃণমূলের কর্মী আব্দুল রহিম বলেন, এতকাল এমপি সাহেব বলতেন, মন্ত্রী ছিলাম না কী উন্নয়ন করব। এখন তিনি মন্ত্রী। কিন্তু এখন আগের কথা ভুলে গেছেন। তৃণমূলের লোকজন এখন তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এখন আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে নতুন প্রার্থী দেওয়া ছাড়া এ আসন ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রায় একই ধরনের কথা বলেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফুলবাড়ীর বাসিন্দা জাকারিয়া জাকির। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার এমপি হওয়ার পরও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এমপি।

তবে পার্বতীপুর পৌর বাজারের ব্যবসায়ী মোকাররম হোসেন বলেন, এ আসনে এমপি ফিজারের প্রয়োজন আছে। নেতা ও ব্যক্তি হিসেবে তিনি অনেক সাধারণ। তাঁর বিকল্প কোনো নেতা এখনো তৈরি হয়নি।

হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাছুদুর রহমান শাহ বলেন, ক্ষমতা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর ক্ষোভ রয়েছে তাঁর ওপর। যে যত কথাই বলুক মনোনয়ন পাবেন এমপি মোস্তাফিজুর রহমানই। দুই উপজেলায় ব্যক্তিগত ইমেজ রয়েছে তাঁর।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সফেদ আশফাক তুহিন বলেন, পর পর দুইবার মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি (ফিজার) জনগণের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে রেখেছেন। কর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরও নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি মেলেনি। এতেও নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন বর্তমান এমপি ফিজার। ’

মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন টানা ছয় বার এই এলাকা থেকে জনগনের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। এমপি থেকে মন্ত্রী হয়েছে । আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখনও উন্নয়ন করছি । নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। আমি যতদিন বেঁচে আছি তত দিন এই এলাকার মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যাব । এই এলাকার মানুষও আমার সাথে থাকবে বলে মনে করি ।

ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল তাঁর পক্ষে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্মরণকালের উন্নয়ন করা হয়েছে দুই উপজেলার অলিগলিতে। দলের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। নৌকায় ভোট দেওয়ার বেলায় সবাই এক। বিরোধিতার কারণে কিছু লোক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অঞ্চলের মাটি মানুষের নেতা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষ। এ আসনে তাঁর বিকল্প কেউ তৈরি হয়নি। আর মনোনয়নও পাবেন তিনি।

এদিকে এ আসনে জাপার জনসমর্থন না থাকলেও বিএনপি নেতা এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের বিপুল জনসমর্থন রয়েছে তৃণমূলের কাছে। ফলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বলেন, আন্দোলন সংগ্রামসহ বিএনপির দুর্দিনে দলের সঙ্গেই আছি। জাতীয় স্বার্থে বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় তাহলে দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির প্রার্থীর অনুকূলেই জনসমর্থন থাকবে বলে দাবি করেন এই নেতা।

/পি.এস

দিনাজপুর,আ.লীগ,বিএনপি