• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

কতিপয় দুর্বৃত্তের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে: হাইকোর্ট

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকান্ডে চিকিৎসদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এরই সঙ্গে চিকিৎসকদের হরতাল ডাকা ‘অন্যায়’ বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।

সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেয়। ভুল চিকিৎসা নিয়ে করা অন্য একটি রিটের শুনানি করতে গিয়ে আদালতের এ মন্তব্য এলো।

আদালত বলেছে, “ডাক্তার দেবতা নন। ভুল হবে সেটা স্বাভাবিক। ভুলটা অন্যায় নয়। কিন্তু ভুলটা জাস্টিফায়েড করার জন্য হরতাল ডাকা হলে সেটা অন্যায়।”

“মানুষ বিপদে পড়লে তিন পেশার মানুষের কাছে যায়। পুলিশ, আইনজীবী ও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। কিছু দুর্বৃত্তের কারণে যদি এই তিন পেশার পেশাদারিত্ব ধ্বংস হয়, তাহলে মানুষ বিপদে পড়বে।”

সম্প্রতি চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসকের অবহেলায়। রোগীর স্বজনের অভিযোগের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করে দেয়া তদন্ত কমিটিই অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, ওই তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই প্রতিবেদন দেয়ার দিন রবিবার ম্যাক্স হাসপাতালসহ পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যামাণ আদালত। নেয়া হয় নানা ব্যবস্থা।

এর প্রতিক্রিয়ায় গোটা জেলায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া হয় বেসরকারি সব হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে। এক দিন রোগীদেরকে ভুগিয়ে সোমবার অবশ্য এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত বলেন, “কতিপয় দুর্বৃত্তের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। দেশে অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং ভালো মানের চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদকে নির্দেশ দেন আদালত।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে বিচারকরা বলেন, ‘মেয়েটাকে তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। আমাদের ভুল হলে উচ্চতর আদালত আছে। ভুলটা অন্যায় নয় কিন্তু ভুলের কারণে ধর্মঘট ডাকা অন্যায়। ধনীরা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারে। কিন্তু গরিবরা কোথায় যাবে? ’

আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন সুভাষ চন্দ্র দাস। চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন এম আমিনুল ইসলাম।

গত মার্চে ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে আয়োজিত চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তী জটিলতায় চোখ হারান ২০ জন নারী-পুরুষ। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে একটি দৈনিকের প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১ এপ্রিল রিট করেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। এদের মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে ইমপ্যাক্ট পক্ষ থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়।’

‘৫ মার্চের ওই অপারেশনের ফলে এদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়।’

রিটের শুনানি নিয়ে ওই ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গার ডিসি ও এসপি, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীনসহ ১০ জনকে বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

আদালত অন্য এক রুলে আদালত ইমপ্যাক্ট হাসপাতাল এবং ডাক্তারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তাও জানতে চায়।

-একে

চিকিৎসক,হাইকোর্ট