• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

এলো খুশির ঈদ

প্রকাশ:  ১৬ জুন ২০১৮, ০৫:২৮ | আপডেট : ১৬ জুন ২০১৮, ০৫:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
রমজানের ওই রোজার শেষে, এলো খুশির ঈদ। আজ শনিবার (১৬ জুন) পবিত্র ঈদুল ফেতর। সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের জামাতে শরিক হয়ে উৎসবে মাতবেন দেশের মুসলমান সম্প্রদায়। ঈদুল ফেতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মী এবং বিচারক ও কূটনীতিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাদ। বাণীতে তাঁরা ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীর সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসব। মুসলমানের সবচেয়ে খুশির ও সর্বপ্রধান উৎসব এই ঈদুল ফিতর। সমাজের অন্য ধর্ম ও গোত্রের মানুষও উপভোগ করে এই ঈদ। উৎসবপ্রিয় জাতি হিসেবে বিশ্বসমাজে খ্যাত বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরাও মুসলমানদের এ উৎসবে সামিল হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে। এ উৎসবপ্রিয়তা আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে, সমৃদ্ধ করেছে ধর্মীয় জীবনকেও। আজ বাংলার ঘরে ঘরে সাজ সাজ রব। ধর্মের সাথে নিজস্ব সংস্কৃতির মিশেলে বাঙালির ঈদ অপূর্ব অসাধারণ। বাহারি পোশাক, রকমারি সাজ, বিভিন্ন মুখরোচক খাবার, হল্লা করে ঘোরাফেরা সবই ঈদকে বৈশিষ্ট্যময় করে তোলে। সব মিলিয়ে ঈদকে নান্দনিক উৎসবে পরিণত করেছে বাঙালি জাতি। রোজার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমান শিখেছে ভোগস্পৃহা নিয়ন্ত্রণ, শিখেছে ত্যাগের মন্ত্র আর সহমর্মিতা। মুসলমান সংযমী হয়েছে, ক্ষুুধার কষ্ট সয়ে তাদের হৃদয় হয়েছে খোদামুখি। অনাহারি অভুক্তের কষ্ট বুঝতে পেরে তারা হয়েছে দরাজ–দিল। আজ রমজানের ইতি টানতে যাচ্ছে শাওয়ালের চাঁদ। কাক্সিক্ষত এ চাঁদ ছড়িয়ে দিচ্ছে অনাবিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। আজ ঈদের আনন্দসাগরে অবগাহন করছে আবালবৃদ্ধবণিতা। স্বপ্নডানায় ভর করে স্বপ্নরঙিন মন ছুটে চলছে দূর অজানায়। একসময় শুভেচ্ছা হিসেবে কেবল রঙ বেরঙের ঈদকার্ড বিনিময় হতো। কিন্তু ডিজিটাল এ যুগে হরদম চলছে এসএমএস বা এমএমএস। শুভেচ্ছা যাচ্ছে ফেসবুক আর টুইটারের মাধ্যমেও। এখানে ধর্ম গৌণ, বাঙালি সংস্কৃতিই মুখ্য বিষয়। ঈদ এসেছে মহাসাম্যের বাণী নিয়েই। ধনীর সম্পদে, জ্ঞানীর জ্ঞানভান্ডারে সকলের অধিকার আছে। ইসলামের শিক্ষা হলো এসবের সুষম বণ্টন। আমার ক্ষুুধার অন্নে তোমার অধিকার না থাকতে পারে কিন্তু আমার উদ্বৃত্ত অর্থে তোমার নিশ্চয়ই দাবি আছে, এ শিক্ষা ইসলামের। পৃথিবীর আর কোনো ধর্ম এত বড় শিক্ষা মানুষের জন্যে নিয়ে আনেনি। রোজা যদি সে দরিদ্রকে ভালোবাসতে না শেখালো, সে দরিদ্রে সাহায্য করতে না শেখালো তবে এ ঈদের আনন্দ অর্থহীন। দীন–কাঙালেরে অভুক্ত রেখে ভরপেটে যে ঘুমায় সে আর যা–ই হোক, মুমিন নয়। এ শিক্ষা মহামানবের, মানবতার প্রশিক্ষক মহানবী (সা.)-এর। আজ ঈদ এসেছে তাদের জন্যে যারা খোদার রাহে সব বিলিয়ে দিতে শিখেছে, খোদার প্রেমের শরাব পান করে যারা অকুণ্ঠচিত্তে বান্দাহ্র হক পূরণ করে, যারা ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ভালোবাসে আর মানুষের সেবা করে।তা ও লৌকিকতার মুখোশ ঝেড়ে ফেলে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠার আহবান জানায় ঈদুল ফিতর। সবার ঈদ হোক মধুর, আনন্দময়। ঈদ মোবারক।
খুশির ঈদ,ঈদুল ফেতর