• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

'খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব যেন সরকার না নেয়’

প্রকাশ:  ১৩ জুন ২০১৮, ২২:২৬ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২২:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বুধবার রাজধানীর মালিবাগের চৌধুরীপাড়ায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এ দাবি জানান খন্দকার মাহবুব। কারাগারে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপাসেনের চিকিৎসা বিএসএমএমইউ অথবা সিএমএইচে করানোর চিন্তা করছে সরকার। এদিকে সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি নন খালেদা জিয়া। তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন।

এমনকি তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে এই হাসপাতালেই তাকে চিকিৎসার দাবি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘যেহেতু ইউনাইটেড হাসপাতালেই তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক, তার ইচ্ছার গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার চিকিৎসার দায়িত্ব যেন সরকার না নেয়।’

মাহবুব বলেন, ‘দীর্ঘ চার মাস কারাবন্দি থেকে খালেদা জিয়ার রোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার তার জীবন নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিন। যেহেতু আপিল বিভাগে তার জামিন নিয়ে কয়েকটি মামলা পেন্ডিং আছে, এছাড়া ঈদের কারণে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত বন্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং তার চিকিৎসার জন্য একটাই পথ খোলা রয়েছে, তা হচ্ছে প্যারোলে মুক্তি।’ প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে খালেদার এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সেনা শাসনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন এবং তিনি চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন। এমনকি তিনি প্যারোলে মুক্ত হয়ে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। খালেদা জিয়াকেও সেই সুযোগ দেয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই পুরাতন ঢাকার পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে একমাত্র বন্দী আছেন খালেদা জিয়া। কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ৭৩ বছর বয়সী দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে বিএনপি। এর আগে একবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত এপ্রিলের শুরুতে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়েছিল। এরপর গত ৫ জুন তিনি হঠাৎ করে কারাগারে ‘মাথা ঘুরে’ পড়ে গেলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে দলটি।

তাকে দেখতে গত শনিবার কারাগারে যান তার ব্যক্তিগত চারজন চিকিৎসক। কারাগার থেকে বের হয়ে তারা খালেদার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হয়েছে ধারণা করে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার সুপারিশ করেন।