• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

ট্রাম্প-কিমের বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি, যৌথ ঘোষণায় নতুন যুগের ইঙ্গিত

প্রকাশ:  ১৩ জুন ২০১৮, ০৪:৫৯ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ০৫:৩৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Trump
Kim
Trump Kim
প্রিন্ট

অতীতের তিক্ততা ভুলে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন দিনের বার্তা দিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে মঙ্গলবার পরস্পরের প্রতি বৈরি দুই নেতা এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন এবং বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের যৌথ ঘোষণা বলা হয়, এখন থেকে একসঙ্গে পথ চলবেন তাঁরা। এই ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই রচনা করবেন নতুন ভবিষ্যত্। অব্যাহত থাকবে সহযোগিতা। ত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণরূপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি জানায় আর এর বিনিময়ে এক সময়ের শত্রু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) সান্তোসা দ্বীপে দীর্ঘ ৭০ বছর পর দেশ দু’টির ক্ষমতাসীন নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো করদর্মন হয় এবং পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। পরস্পরের প্রতি একসময় বৈরি দুই নেতা বৈঠকে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন একটি যুগ সূচনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নেতা কিমের মধ্যে বৈঠকের স্থায়ীত্ব ছিল ৩৮ মিনিট। তাদের সঙ্গে কেবল দোভাষী উপস্থিত ছিলেন। এরপর তারা দুইজন নিজ দেশের প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেন। দু’টি মিলিয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা বৈঠক করেন ট্রাম্প ও কিম। বৈঠকের পর তারা সাংবাদিকদের সামনে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। ১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর আর যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন কোনো নেতা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেননি কিংবা করমর্দনও করেননি।

বৈঠকের পর ট্রাম্প ও কিম স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া নতুনভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হবে, যাতে দুই দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও উন্নতির বিষয়টি প্রতিফলিত হবে। কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে যৌথভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ডিপিআরকে।: ২৭শে এপ্রিল ২০১৮ সালের পানমুনজাম বিবৃতি অনুযায়ী কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার রক্ষা করবে ডিপিআরকে। চতুর্থত : যুক্তরাষ্ট্র ও ডিপিআরকে যুদ্ধবন্দীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে এবং এরই মধ্যে যেসব যুদ্ধবন্দী চিহ্নিত হয়েছে তাদের প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া অতিস্বত্তর শুরু হবে।

দুই নেতা যে শুধুই প্রতিশ্রুতির বিনিময় করেছেন তা নয়, পরস্পরকে প্রশংসার স্রোতেও ভাসিয়েছেন তাঁরা। মাত্র মাস ছয়েক আগে উনের দৃষ্টিতে ট্রাম্প ছিলেন ‘ভীমরতিগ্রস্ত বুড়ো’। আরএখন সেই ‘পাগলা বুড়োর’ সঙ্গেই উন হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আলো ছড়ানো হাসি দিয়ে ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন। আর তাঁর চেয়ে আরো দু-কাঠি সরেস স্বয়ং ট্রাম্প। ‘বেঁটে, মোটা রকেটম্যান’ উন এখন ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান’ যুবক। তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে চান ট্রাম্প। ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার আশা রাখেন।

ম্প-কিম