• বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

‘আদালতের সহানূভুতির জন্যই খালেদার স্ট্রোকের দাবি চিকিৎসকদের’

প্রকাশ:  ১০ জুন ২০১৮, ১৭:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মাইল্ড স্ট্রোক করেছেন বলে তার চিকিৎসক যে দাবি করেছেন সে ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘গত ৫ জুন ইফতারির ঠিক আগে আগে উনার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। সেই জন্য তিনি যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, এটা ঠিক না বা অজ্ঞান ছিলেন, এটাও ঠিক না। সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ার পরে উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিলো। এই বয়সে যার ডায়াবেটিক আছে তার সুগার লেভেল তো সারাদিনের পরে একটু এদিক ওদিক হতেই পারে।’

রোববার দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার নাশকতার এক মামলার শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে বক্তব্য আদালতে (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) রেখেছেন, আমি জানি এ বিষয়টি নিয়ে তারা নানারকম মিডিয়াকে মাতাবেন, অনেক কিছু বলবেন। তাই আমি আদালতে যাওয়ার আগে আইজি প্রিজনের সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে এসব তথ্য দিয়েছেন।’

‘আর এটা আমার কাছে বিশেষ রকম ব্যাপার মনে হয়, আজ একটি মামলার তারিখ আর তার আগের দিন গতকাল তার চিকিৎসকরা কারাগারে গেলেন। আর এসেই এমন একটা প্রেস কনফারেন্স করে ফেললেন যে, তিনি অজ্ঞান ছিলেন। তিনি যদি অজ্ঞান হতেন তাহলে নিশ্চয়ই আইজি প্রিজনের কাছে রিপোর্ট থাকতো, সিভিল সার্জন জানতো। এগুলো নিয়ে তারা একটি জনমত সৃষ্টির চেষ্টার করছেন। উনি অজ্ঞান হননি, উনার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিলো। এই হলো আসল কথা।’

‘খালেদা জিয়া মাইল্ড স্ট্রোক করেছেন’ ডাক্তারদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা ঠিক না। তিনি অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে স্ক্যান করা হতো। তার চিকিৎসায় সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, কোন আসামির ব্যাপারে আপনারা দেখেছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে দেয়া হয়? কিন্তু তারা যাতে কোনোরকম সরকারকে দোষারোপ করতে না পারে এজন্যই সরকার বেশ কয়েকবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে অনুমতি দিয়েছে।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার হলো, চিকিৎসকরাও যদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান এবং এ ধরনের কথা বলেন তিনি অজ্ঞান হননি, তারা বলছে ৭/৮ মিনিট অজ্ঞান ছিলেন, এটা দুঃখজনক।’

‘আজকে মামলার শুনানি অথচ ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা গতকাল গেলো তার সঙ্গে দেখা করতে। ৫ জুন যদি তিনি অজ্ঞান হতেন তাহলে সেদিনই বিষয়টি মিডিয়াতে আসতো। কিন্তু তা আসেনি। আজ ১০ জুন। এ বিষয়টি নিয়ে ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। একটা বিভ্রান্ত তথ্য দেয়া হচ্ছে। আদালতের সহানূভুতি পাওয়ার জন্যই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’

‘অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন মিলবে না’- খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের এই বক্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক এবং আদালত অবমাননাকর। আদালত কারো কথায় চলে না। আমার কথা বা সরকারের কথায় চলার তো প্রশ্নেই আসে না। কাজেই যে কথাগুলো বলছেন তাতে মনে হচ্ছে, তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ, তারা তো অনেক মামলায় জামিন পাচ্ছেন। ’       

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। এবং তারা তাদের নিজেদের বিবেক, বিচার, বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত হবেন। খালেদা জিয়াকে তারা (হাইকোর্ট) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন দিয়েছেন। সুতরাং এ রকম কোন অভিযোগ করা অহেতুক।’
-একে