• শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮, ৯ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

জেএসসির নতুন সিলেবাসে কমেছে গদ্য-পদ্য ব্যাকরণ ও সহপাঠ

প্রকাশ:  ০৬ জুন ২০১৮, ১০:২৫ | আপডেট : ০৬ জুন ২০১৮, ১০:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
সম্পতি জেএসসি ও জেডিসিতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে নম্বর কমিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে শিক্ষাবোর্ড। জেএসসির নতুন সিলেবাস থেকে বাদ পড়েছে গদ্য-পদ্য, ব্যাবকরণ এবং সহপাঠের অনেক অংশ। ইংরেজি বিষয়ে ৩টি ইউনিটে মোট ৩৩ পাঠ্যঅংশ কমানো হয়েছে বলেও এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

তথ্যমতে, জেএসসির নতুন সিলেবাস অনুযায়ী ইংরেজি বিষয়ে ‘ইংলিশ ফর টুডে’পাঠ্যবইয়ের ইউনিট ৩ ইউনিট (৩, ৪, ৮) সম্পন্ন অংশ বাদ দেয়া হয়েছে। গ্রামার এবং কমপোজিশন, ডিগ্রি অব কমপেনসেশন, গ্রাউন্ড এবং পার্টিসিপল, মডালস, লিকিং শব্দসমূহ, সামারি রাইটিং এ কমপ্লিটিং স্টোরি নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বাদ পড়েছে।

নতুন সিলেবাসের তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট ৯ শিক্ষা বোর্ডের অধীনেই জেএসসি পরীক্ষায় বাংলা-ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা ও নম্বর কমানের পর নতুন করে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। সেখানে মুস্তাফা মনোয়ারের লেখা শিল্পকলার নানা দিক গদ্য বাদ দেয়া হয়েছে। বাংলায় পদ্য অংশের সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘প্রার্থী’, বুদ্ধদেব বসুর ‘নদীর স্বপ্ন’ এবং সুফিয়া কামালের লেখা ‘জাগো তবে অরণ্য কন্যারা’নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বাদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলা ২য় পত্রে ব্যাকরণ থেকে বহুবচন গঠনের নিয়ম ও উদাহরণ, শ্রেণি বিভাজন, নির্দেশক, সর্বনামের দিক, শব্দ গঠনের প্রাথমিক ধারণা, অভিধান, ভক্তি, সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া, ক্রিয়ার কাল, নিসর্গকরণ, একই শব্দ বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করে ব্যাখ্যা ও বচনা, বাক্য রচনা, নির্মিত অর্থ, অনুচ্ছেদ, অনুধাবনসহ সহপাঠ বিষয়গুলো বাদ দিয়েছে বলে জানা যায়।

নম্বর বিভাজন: বাংলায় নৈর্ব্যক্তিক ৩০ (কবিতা ৮, গদ্য ৮ এবং দ্বিতীয় পত্র ১৪) নম্বর; সৃজনশীল ৪০ নম্বর (কবিতা ২০ ও গদ্য ২০) এবং দ্বিতীয় পত্র ৩০ (রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ এবং চিঠি/আবেদন)। ইংরেজিতে সিন ২০ নম্বর, আনসিন ২৫ নম্বর, গ্রামার ২৫ নম্বর, ৩০ নম্বর (রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ এবং চিঠি/আবেদন)।

জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটের (জেডিসি) নতুন সিলেবাস ও মানবণ্টন তৈরির কাজ এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন মাদসারা বোর্ডের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রক সিব্বির আহমেদ। একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নতুন সিলেবাস ও নম্বর বিভজনের বিষয়য়ে চূড়ান্ত করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেবাস তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, আগামী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা থেকে নম্বর ও বিষয় কমাতে গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন জানান, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সুপারিশের আলোকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৫০ এবং ঐচ্ছিক বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা না হয়ে তা ক্লাসে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সে ভিত্তিতে পরীক্ষার মানবন্টনে এনসিটিবিকে নির্দেশনা দেয়া হয়। তার ভিত্তিতে এ পরীক্ষার প্রশ্নের নম্বর বিভাজন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ইতোমধ্যে, জেএসসি-জেডিসির বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষার মানবন্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলা দুটি বিষয় একত্রিত করে মোট ১০০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সৃজনশীল ও রচনামূলক অংশে ৭০ নম্বর এবং বহু নির্বাচনী অংশে ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের নম্বর ১০ এবং প্রতিটি বহু নির্বাচনী প্রশ্নে নম্বর হবে এক করে। ইংরেজি বিষয়কে চারটি বিভাগে ভাগ করে এ বিষয়ের মানবন্টন করা হয়েছে।

ওএফ