• মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮, ৫ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||
শিরোনাম

‘অভিযান চলছে ঢিলেঢালা, কড়া হলে ৭শ লোক মরতো’

প্রকাশ:  ২৮ মে ২০১৮, ১৭:১০ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৮, ১৭:১৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি বলেছেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে ১৩ দিন ধরে। এই ১৩ দিনে মানুষ তেমন মারা যায়নি, হৈচৈ যত হচ্ছে মানুষ তত মারা যায়নি। মাত্র ৬৯ জন লোক মারা গেছে। অভিযান তীব্র হলে ১৩ দিনে কমপক্ষে ৭০০ লোক মারা যেত। অতএব ঢিলেঢালা একটা অভিযান চলছে।’

রোববার রাতে চ্যানেল আইয়ের ‘তৃতীয় মাত্রা’ টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানো উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি অভিযান চলছে এজন্যই মাদকের যারা ডিলার, যারা বিদেশ থেকে আনে এরা কিছুটা ভীতসন্ত্রস্ত।’

ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘এই অভিযানে যাদেরকেই মারা হোক না কেন, সেটা ইতিবাচক। আমাদের দেশের একমাত্র সমস্যা হলো মাদক, যে যতবড় কথাই বলুক। মাদকের থাবায়, পরিবারের একটি ছেলে যদি মাদকাসক্ত হয় ওই পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক পরিবার বলছে বারবার থানায়, জেলখানায় দিলেও কোনো কাজ হয় না। এমনকি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে দিয়েও কোনো কাজ হয় না।’

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, ‘ঐশী নামের একটি ১৫ বছরের মেয়ে, সে তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। ঐশীর বাবা একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। সে মাদকাসক্ত হয়ে সুকৌশলে তার বাবা মা দুজনকেই হত্যা করেছে। একটা মেয়ে কতটুকু মাদকাসক্ত হয়ে বা পাগল হয়ে গেলে নিজের বাবা মাকে হত্যা করতে পারে, এটা চিন্তাই করা যায় না। একদিনে এটা হয়নি, ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রী ছিল সে।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য আমরা মনে করি মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযানটা চলছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন থেকে নির্দেশ দিয়েছেন তখন থেকে এই অভিযানটা শুরু হয়েছে। এর আগে শুনি যে এক লাখ ইয়াবা ধরা পড়ছে, দুই লাখ ধরা পড়ছে, পাঁচ লাখ ধরা পড়ছে। ফেনসিডিল ধরা পড়ে কোনো অভিযান চলে না, লোক-ই ধরা পড়ে না। যে মুহূর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন সেই মুহূর্তে নড়েচড়ে বসল দেশ। এই অভিযান যদি আজ থেকে পাঁচ বছর আগে শুরু করত তাহলে আমি মনে করি দুই একশ মানুষ মারলেই এটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত।’

ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘এখন এত বিস্তার ঘটেছে, গ্রামগঞ্জে সহজে পয়সা ইনকামের পথ হচ্ছে মাদক। অতএব একবার যদি মাদক সেবন করেন, মাদকের ব্যবসায় জড়িত হবে, মাদক সেবনের পয়সা আর লাগবে না। কারণ সে তো নিজেই ডিলার হয়ে যাচ্ছে।’

সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘এই যত রকম খুন খারাপি হচ্ছে, শিশু হত্যা হচ্ছে, বাচ্চাদের কিডন্যাপ করা হচ্ছে শুধু মাদকের টাকা যোগার করার জন্য। আপন চাচিকে হত্যা করছে, করে নাটক সাজাচ্ছে যে এটা ডাকাতি হয়েছে। ধরা পড়ে দেখা যায় সে মাদকাসক্ত। অহরহ নিজের বাপ-মাকে ছুরি চালাচ্ছে। অতএব একজন মাদকাসক্ত হচ্ছে সমাজের সব থেকে বড় সমস্যা।’

ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে হাটে মাঠে সবখানে আজ মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদকের কারণে একটি সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ছাত্র যুবক বৃদ্ধ  কিশোর কিশোরী নারী গৃহবধূ আক্রান্ত সবাই। অতএব এর বিরুদ্ধে অভিযান আরও তীব্র করতে হবে। এইভাবে ঢিলেঢালাভাবে অভিযান করলে হবে না, আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে। আজকে যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয় বলে আমি মনে করি।’

জাতীয় পার্টির এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, সাত দিন পরেই জামিন পেয়ে যাবে। মৃত্যুকে সবাই ভয় পায়, পাগলও ভয় পায়। পাগলকে আগুনের কাছে নিয়ে যাবেন সে আগুনের কাছে যাবে না। সুতরাং একমাত্র মরার ভয় হলো সবচেয়ে বড় ভয়, সিঙ্গাপুর যা করছে, মালয়েশিয়ায় ব্রাজিলের এক নারীকে মাদক পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অতএব আমি মনে করি এটা সরকারের সময়োচিত একটি পদক্ষেপ, এটিকে আরও তীব্র করা উচিত, আরও দীর্ঘ দিন চলমান রাখা উচিত। যাতে করে এ দেশ থেকে মাদক একেবারে নির্মূল করা যায়।’  
-একে