• রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রকাশ:  ২৫ মে ২০১৮, ১০:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে/মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে/আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।’ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাঁধনহারা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বিপুল বিস্তারে বিচরণ করেছেন সাহিত্যের ভুবনে। বিপ্লব, সাম্য, মানবতা আর অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন সমগ্র জীবনজুড়ে। আজ এ মহান কবির ১১৯তম জন্মজয়ন্তী শুক্রবার(২৫ মে)। ১৮৯৯ সালের এইদিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন দ্রোহ ও প্রেমের এই কবি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশ ও বিশ্বময় আজও প্রাসঙ্গিক কাজী নজরুল। দ্রোহের এই অনবদ্য সৃষ্টির যিনি স্রষ্টা, তিনি একাধারে সৃজন করেছেন প্রেমের পংক্তিমালাও। চিন্তার বৈচিত্র্য আর বিস্তারে এভাবেই বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ক্ষুরধার লেখনীর আঁচড়ে যিনি সাহিত্যের ভুবনে বিচরণ করেছেন অনায়াসে।

দুর্দিনে আর আঁধারে, শোষণ আর বঞ্চনার প্রতিবাদে তিনি ছিলেন সোচ্চার। নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান যুগে যুগে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে। ইতিহাস ও সময় সচেতনতার প্রভাব রয়েছে তাঁর সৃষ্টিজুড়ে। বিশিষ্টজনেরা বলেন, বাংলা সাহিত্যে নজরুলের আগমন ধুমকেতু তুল্য। জানালেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

নজরুলের কবিতা, গানে ও অন্যান্য রচনায় বারবার উঠে এসেছে সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা। তিনি চেয়েছেন বিভেদমুক্ত এক সম্প্রীতির পৃথিবী। জানালেন, নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ভূঞা।

একাত্তরে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামেও কাজী নজরুল ছিলেন অন্যতম সারথী। তাঁর গান ও কবিতা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার উৎস।

কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ১৯৪২ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান কবি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৬ সালে জীবনাবসান ঘটে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। কিন্তু জাতির হৃদয়ে তিনি চির অম্লান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

অভি

কবি,কাজী নজরুল ইসলাম,জন্মজয়ন্তী