• মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

খুলনার জয়ে ক্ষমতাসীনদের স্বস্তি

প্রকাশ:  ১৭ মে ২০১৮, ০১:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিংখাতে ধস.শিক্ষার নিম্নমান ও প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিনিয়োগ বন্ধ্যুাত্ব, বিএনপি চেয়ারপারসনের জেল এবং কোটা আন্দোলনে খানিকটা চাপের মধ্যে ছিল আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনের বছরে সিটি নির্বাচনগুলো নিয়ে একধরনের সংশয়ের মধ্যে ছিল দলটি। কারণ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও এসব নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করে জাতীয় নির্বাচনকেও। তাই খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল ক্ষমতাসীনদের হাই কমান্ড। তবে তালুকদার আবদুল খালেকের জয়ে পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। রাজনীতির হাওয়া ফের সরকারের অনুকূলে বইতে শুরু করেছে। অনিয়ম আর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠলেও খুলনা সিটির জয়ে উচ্ছ্বসিত আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা, আর স্বস্তি ফিরে পেয়েছে শীর্ষনেতারা।

খুলনা সিটিতে খালেকের বিজয়কে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর জনগণের আস্থা হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল। পাশাপাশি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও জয়ে ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীরা ফিরে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস। আগামী জাতীয় নির্বাচনে একই ধরনের ফল আসবে বলে মনে করছে দলটি। খুলনা সিটির নির্বাচনকে ‘মডেল’ ধরে আগামীর সব স্থানীয় এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গতি আনতে চায় আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা মনে করছেন, খুলনার নির্বাচনে বিজয়ের মূল কারণ হলো শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। তার বিগত দিনের উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে আসলে এ জয়। তারা বলেন, দেশের জনগণ উন্নয়নের স্বীকৃতি দিতে জানে এবং সেটা তারা প্রমাণ করেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খুলনার নির্বাচন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যারা খুলনার নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করছেন আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসবেন এমন আভাস জনগণ দিয়েছে দাবি করে বলেন, জনগণ খুলনার নির্বাচনে রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে। এদেশের জনগণ যেমন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে একটানা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে উন্নয়ন করতে দেখেছে, ঠিক তেমনি শেখ হাসিনাকেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরো টানা ২০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়। সেই কারণেই তারা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার।

খুলনার জয়ে উচ্ছসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনার নির্বাচনটা ছিল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে এটা করা হয়েছে। আমাদের দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, এমপি হওয়ায় তারা সেখানে নির্বাচনী প্রচার চালাননি। বলা যায়, এ নির্বাচনের ফল আমাদের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বড় স্বীকৃতি। তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে দেশের জনগণ, এটা খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে। উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছে। কোথাও কোনো সংঘাত-বিরোধ দেখা দেয়নি। যে দুটি কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন সে দুটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের বিজয় হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশ- এটা প্রমাণ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে অনেক আশঙ্কা ছিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক একজন পরিচ্ছন্ন ও সফল মেয়র ছিলেন। খুলনার জনগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাকে বিজয়ী করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণ ভোট দিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশ, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন। নৌকার বিপুল বিজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, খুলনার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ওপর আস্থা রেখেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এই অঞ্চলের মানুষ ভালো থাকে, শান্তিতে থাকে, তাদের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ধ্বংস আর সন্ত্রাসের উত্থান। এ ছাড়া অতীতে তালুকদার আব্দুল খালেক ক্ষমতায় থাকতে খুলনা ও খুলনার মানুষের যে উন্নয়ন করেছিলেন তা তারা স্মরণে রেখেছে এবং গণজোয়ার সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করেছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মোটামুটি গোলযোগহীনভাবে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিজয়ী হয়েছেন। ২৮৬ কেন্দ্রের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯১ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই সিটি কর্পোরেশনে মোট কেন্দ্র ছিল ২৮৯টি, অনিয়মের কারণে ৩টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়। এই ৩টি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট ৫ হাজারের কিছু বেশি।

এদিকে এই নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানা অভিযোগ তুললেও শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল বিএনপি। তবে পরাজয়ের পর ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপির এই দাবিকে মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করে জনরায় থেকে বিএনপিকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই নির্বাচন ‘চমৎকার’ হয়েছে।