• বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

নববর্ষে টিএসসিতে যৌন হয়রানি মামলার স্বাক্ষ্যই শুরু হয়নি

প্রকাশ:  ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩৪ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নারীদের যৌন ও্ট নায় পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ৮ যৌন নির্যাতনকারীকে শনাক্ত করেছিল। তাদের মধ্যে মো. কামাল নামে একজনকে শুধু গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাই ওই এক আসামিতেই শুরু হয়েছে বিচার। মামলাটির বিচারকাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ জুন এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলেও অদ্যাবধি মামলায় কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। আগামী ৩ জুন এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারাধীন।

এ সম্পর্কে ওই ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদা আক্তার বলেন, পুলিশের দায়িত্ব সাক্ষী হাজির করা। কিন্তু পুলিশ সাক্ষী হাজির করছে না।দালতে সাক্ষী না আসায় তাদের প্রতি সমন জারি করা হয়েছে। আমাদের কী করার আছে।

২০১৫ সালের পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির উল্টোপাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে কয়েক নারীকে যৌন হয়রানি করা হয়। ওই ঘটনায় ৮ জনকে শনাক্ত করেছিল পুলিশ। পরে তাদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আসামিদের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনও গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে শনাক্তকৃত আসামিদের মধ্যে মো. কামাল (৩৫) গ্রেপ্তার হলে তাকে প্রথমে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়।

২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পিবিআইয়ের পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র আসামি কামালকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ১৯ জুন ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার ওই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।

চার্জ গঠনের আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, ‘২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যে কোনো সময় রাজধানী ঢাকার সাভার থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় আপনি আসামি মো. কামাল পহেলা বৈশাখ ১৪২২ উদযাপন উপলক্ষে হাজার হাজার নারী পুরুষের উপচেপড়া প্রচ- ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত মেয়েদের শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটান।’

মামলাটির চার্জশিটে ৩৪ জনকে সাক্ষী করে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি তদন্তকালে একাধিকবার ঘটনাস্থল গিয়ে প্রত্যক্ষ সাক্ষী, ভিকটিমদের সন্ধান এবং আসামিদের সন্ধান ও গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। কামাল ছাড়া অন্য কোনো আসামির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ৮ আসামির জন্য এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মিডিয়ায় প্রচার করা সত্ত্বেও আসামিদের নাম-ঠিকানা ও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বাকি সাতজনের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

পুনঃতদন্তের সাক্ষী ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দির জবানবন্দিতে ওই দিনের যৌন হয়রানির ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৫টা থেকে আমরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দেখতে পাই ৫ গ্রুপে বখাটেরা নারীদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। প্রতিহত করার জন্য আমিসহ আমার সঙ্গীরা এগিয়ে যাই। রাজু ভাস্কর্যের পূর্ব পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩ নম্বর গেটের সামনের রাস্তার ওপর একটি মেয়ের শাড়ি বখাটেরা খুলে ফেলে এবং ব্লাউজ ছিঁড়ে ফেলে। তখন আমরা বখাটেদের কিলঘুষি মেরে তাড়িয়ে দেই। মেয়েটিকে শরীর ঢাকার জন্য আমার পাঞ্জাবি খুলে দেই। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে বখাটেরা মেয়েদের যৌন হয়রানি করেন।