• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

সংসদের ৪০ আসনে পরিবর্তন আসছে

প্রকাশ:  ১৪ মার্চ ২০১৮, ০১:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ আসনের সীমানায় কমবেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। একজন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত ‘সীমানা পুনর্বিন্যাসে গঠিত কমিটি’ ইতোমধ্যে সীমানা পুনর্বিন্যাসে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। নতুন সৃষ্ট উপজেলা, প্রশাসনিক ইউনিট ও ছিটমহল এলাকা সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এটি বিচার বিশ্লেষণ করে খসড়া চূড়ান্ত করা হতে পারে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আইন ও নীতিমালার আলোকে যতদূর সম্ভব, ভৌগলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। তবে, এটি কতটুকু রাখা হবে কিনা, তার সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। বুধবারের কমিশন সভায় সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।’

এর আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সাবেক যুগ্ম সচিব বিশ্বাস লুৎফর রহমানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তার পরামর্শ নিয়ে এবং জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়ে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ তৈরি করে। কমিটি খসড়া প্রস্তুত করে রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে তা উপস্থাপন করেছে। সীমানার খসড়ার অনুমোদন দিতে বুধবার কমিশন সভা আহ্বান করেছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ডিলিমিটেশন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬’ ও নীতিমালা অনুসরণ করে এই সীমানা বিন্যাসে সুপারিশ তৈরি করা হয়েছ। নীতিমালায় আসন পরিবর্তন কোনোভাবেই এক জেলার অংশ অন্য জেলায় যুক্ত করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, এবারের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক বিন্যাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সংসদীয় সীমানায় যেসব আসনে খণ্ডিত উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে খণ্ডিত ওয়ার্ড রয়েছে, তা একত্রিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।

সীমানা পুনর্বিন্যাস কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া হলেও তা পাস না হওয়ায় বিদ্যমান আইনেই সীমানা পরিবর্তন আসছে। এ কারণে সংসদীয় আসনের সীমানায় বড় কোনও পরিবর্তন আসছে না। অবশ্য সম্প্রতি সীমানা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত এক সভায় অর্ধশতাধিক আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন মহলের চাপ ও তদবিরে কিছুটা পিছু হটে কমিশন।

বুধবার অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় খসড়া সীমানার খসড়া অনুমোদন পাওয়া পরেই খসড়া গেজেট আকারে প্রকাশ করে দাবি-আপত্তির জন্য আবেদন চাওয়া হবে। যেসব এলাকার সীমানা পরিবর্তন করা হচ্ছে, সেখানকার ভোটাররা এ বিষয়ে লিখিত আকারে তাদের আপত্তি কমিশনে দাখিল করতে পারবেন। শুনানির পরই তিনশ’ আসনের চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী এপ্রিলের মধ্যে এসব কার্যক্রম শেষ করতে চায় কমিশন।

আইন অনুযায়ী প্রতি আদম শুমানির পর সীমানা পুনর্বিন্যাসের বাধ্যবাধকতা থাকায় এবার সীমানা পুনর্বিন্যাস করা জরুরি ছিল না। কারণ সর্বশেষ ২০১১ সালের আদম শুমানি অনুযায়ী ২০১৩ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়।

এদিকে, সিইসি কে এম নূরুল হুদা, সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করেছে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওসার। বৈঠকে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।