• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

মন্ত্রীর বিমানকেও এক ঘণ্টা আকাশে ঘোরাল ত্রিভুবন বিমানবন্দর

প্রকাশ:  ১৩ মার্চ ২০১৮, ২১:৩৯ | আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ২১:৫১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মঙ্গলবার ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু গিয়েছে একটি বিশেষ ফ্লাইট। এ ফ্লাইটে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজন ও বাংলাদেশি সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক যাত্রী।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় ছাড়ে বিমানটি। কথা ছিল নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। কিন্তু গন্তব্যে পৌছানোর পরও সময়মতো অবতরণ করতে পারেনি বিমানটি। বিমানবন্দরের আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা চক্কর কেটে তারপর মাটিতে নামে বিমানটি।

জানা যায়, যাত্রীদের অধিকাংশই ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে আহত-নিহতদের খোঁজখবর এবং সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কাঠমান্ডুতে যান। তবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আসলো একটি ঘোষণা। বিমানের ক্যাপ্টেন বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি। তবে আমাদের এখনও ল্যান্ডিং টাইম (অবতরণের সময়) দেয়া হয়নি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অতিরিক্ত ফ্লাই করে বিমানবন্দরে ল্যান্ড করতে পারব। গতকাল ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।'

বিমান দুর্ঘটনার পরের দিনের ফ্লাইটে এমন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা যায়। ওই ঘোষণার ১০ মিনিট পর আসে নতুন ঘোষণা। ক্যাপ্টেন বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি এবং ল্যান্ডিং টাইম পেয়েছি। আমাদের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে অবতরণের কথা থাকলেও অবতরণে সময় দেয়া হয়েছে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট। আশা করছি ১টা ৫০ অথবা দুপুর ২টার মধ্যে আমরা নিরাপদে কাঠমান্ডুতে অবতরণ করব।’

অবশেষে নেপালের আকাশে এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৭ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে ত্রিভুবনে অবতরণ করে। দেড় ঘণ্টার ফ্লাইটটি নেপালে পৌঁছায় আড়াই ঘণ্টায়।

প্রসঙ্গত, সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে চার ক্রু ও ৬৭ আরোহী নিয়ে বাংলাদেশি ইউএস-বাংলার বিএস-২২১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। এতে অর্ধশত যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। ঘটনাস্থলে মারা যান ৩২ জন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ যাত্রী। উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপ ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। প্রাপ্তবয়স্ক ৬৫ এবং দুই শিশু ছিল।