• শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা

প্রকাশ:  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

সমুদ্রগামী জাহাজে কাজ করা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদেরকে উগ্রবাদে জড়ানোর চেষ্টার কথা জানতে পেরেছে র‌্যাব। ঢাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে আটক দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

সোমবার রাত সোয়া ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সোনালী ব্যাংকের মোড় থেকে জেএমবি সদস্য সন্দেহে আটক হন নুরুজ্জামান লাবু এবং নাজমুল ইসলাম শাওন নামে দুই জন। আর মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে ব্রিফিং করে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানায় র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক কর্মকর্তা লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান জানান, শাওন ৪৬ তম ব্যাচের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। ২০১৫ সালের উগ্রবাদী ধর্মীয় মতাদর্শে ঝুঁকে যান তিনি। ‘ব্লাক ফ্লাগ ফ্রম সিরিয়া’ জাতীয় উগ্রবাদী মতাদর্শের বিভিন্ন বই পড়ার মাধ্যমে তিনি এই ধরনের মতবাদে আকৃষ্ট হন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী লেখা শেয়ার এবং পোস্ট করতেন।

২০১৫ সালের মার্চে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবু আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে শাওনের পরিচয় হয়। তার মাধ্যমেই জেএমবিতে প্রবেশ করেন শাওন। ওই বছরেই জেএমবির সদস্য মো. সুলায়মান ওরফে আজাহারের সঙে পরিচয় হয়। ওই সুলায়মানের নির্দেশেই তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদেরকে জঙ্গিবাদে অন্তর্ভূক্তির চেষ্টা করতেন। তবে এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যকে বিশেষ কোনো লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা ছিল কি না, সেটি এখনও জানতে পারেনি র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, শাওনের সঙ্গে গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান লাবু বর্তমানে ঝিনাইদহ এলাকার জেএমবির আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা। তিনি বোমা বানাতে বিশেষভাবে পারদর্শী। তিনি এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

কর্মজীবনে প্রথম জীবনে বাস ও ট্রাক চালকের সহকারী এবং পরে লন্ডিতে কাজ করতেন। তবে এখন তিনি দিনমজুর বা রিকশা চালক হিসেবে জীবন যাপন করছেন। তিনি দুই তিন মাসের জন্য কওমি মাদ্রাসায়ও ভর্তি হন।

২০১৫ সালের দিকে সাইফ ওরফে রুবেল ওরফে রবিন, এবং সাগর ওরফে মারুফ ওরফে সোহাগ ওরফে শিহাবের মাধ্যমে উগ্রবাদে দীক্ষিত হন লাবু।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লাবুকে বিধর্মীদের হত্যা ও আক্রমণ করতে অনুপ্রাণিত করনের সাইফ। বিভিন্ন সময়ে তিনি ঝিনাইদহ এলাকার স্কুল মাঠ এবং একটি রিকশার গ্যারেজে গোপন বৈঠক করতেন।

লাবুকে জেএমবির পক্ষ থেকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয়েছিল। ওই রিকশা চালানোর অজুহাতে তিনি বিভিন্ন এলাকায় রেকি করতেন এবং মুসলমান থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদের অনুসরণ করতেন। আর খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করা একজনকে কুপিয়ে হত্যার জন্য তাকে প্রতিনিয়ত অনুসরণ করতেন লাবু।

লাবু এবং শাওনের দেওয়া তথ্যমতে, তারা অনলাইনে যোগাযোগ করে ৪০ থেকে ৫০ জন সমমনাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। আর তারা দেশের মধ্যে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্যই একত্রিত হচ্ছিল।

এই দুইজন ঢাকায় কেন এসেছিলেন কেন, এবং কোন ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন এমন প্রশ্নের অবশ্য জবাব এখনও নেই র‌্যাবের কাছে। দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার আশা করছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবে আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক রইছুল আযম মনি, র‌্যাব-২ এর মেজর মোহাম্মদ আলী এবং সহকারী পরিচালক ফিরোজ কাউছার উপস্থিত ছিলেন।