• মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

পূর্বপশ্চিম এক্সক্লুসিভ

পপিকে অন্যরকম আদর ও স্নেহ দিয়েছিলেন হুমায়ুন ফরীদি

প্রকাশ:  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:২৯ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:৫১
মাকসুদুল হক ইমু
প্রিন্ট

বাংলাদেশের শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মারা যান। আজ তার ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি একাধারে মঞ্চ-টিভি ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নিজস্ব অভিনয় প্রতিভায় দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন এই অভিনেতা।

বাংলা চলচ্চিত্রে খলনায়কের অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি একাধারে আর্ট ফিল্ম এবং বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। আর্ট ফিল্মে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হুলিয়া, ব্যাচেলর, আহা, মাতৃত্ব, বহুব্রীহী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া ও একাত্তরের যিশু। মাতৃত্ব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অভিনীত বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দহন, সন্ত্রাস, বিশ্বপ্রেমিক, ত্যাগ, মায়ের মর্যাদা, অধিকার চায়, মায়ের অধিকার, ভন্ড, রিটার্ন টিকেট, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, দূরত্ব, পদ্মানদীর মাঝি ইত্যাদি।

তিনি একাধারে কাজ করেছেন সেসময়ের আলোচিত সব নায়িকা ও অভিনেত্রীদের সাথে। আজ পূর্বপশ্চিম বিডি নিউজের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে নিজের আবেগমথিত স্মৃতির কথা জানিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপি।

চিত্রনায়িকা পপির সাথে প্রয়াত হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল আমাদের পূর্বপশ্চিম বিডি নিউজের পাঠকদের জন্য-

হুমায়ুন ফরীদি অভিনেতা হিসেবে এত বড়মাপের একজন ছিলেন যে উনাকে নিয়ে কোন মন্তব্য করবার সাহস আমার নেই। আর যদি অন্যভাবে বলি তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি বলি উনি মানুষ হিবে খুবই আসাধারন একজন ছিলেন। আমার সৌভাগ্য যে আমি আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ‘কুলি’ তে উনার সাথে কাজ করবার সুযোগ পেয়েছি। আমি উনার সাথে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। উনি আসলে অসম্ভব কো-অপারেটিভ একজন মানুষ ছিলেন। সহ-শিল্পীদেরকে সহযোগীতা করবার ক্ষেত্রে তার কোন জুড়ি ছিল না।

উনি আমাকে এতটাই পছন্দ করতেন যে, যেদিন আমার ও উনার একসাথে শ্যুটিং থাকত সেদিন উনি বাসা থেকে আমার পছন্দের খাবার সাথে করে নিয়ে আসতেন। আসলে তিনি এতটাই ভালো মানুষ ছিলেন যা আমি বলে শেষ করতে পারব না।

চিত্রনায়িকা পপি আরো বলেন, ফরীদি ভাইয়ের সাথে আমার এত্ত বেশী পরিমান স্মৃতি আছে যা কখনো হিসাব করে শেষ করা যাবে না। একটা স্মৃতি আমার এখনো খুব মনে পড়ে। একবার আমি ফরিদীভাইসহ কক্সবাজারে একটা স্যুটিং এ গিয়েছিলাম। সেখানে কোন একটা কারনে ইউনিটের একজনের সাথে আমার মনোমালিন্য হয়। সেদিন আমার মন খুব খারাপ ছিল। ফরিদী ভাই সে বিষয়টা কারোর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন। তিনি জানতেন আমি পোলাও খুব পছন্দ করি। উনি সেদিন আমার অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য বাবুর্চিকে দিয়ে পোলাও রান্না করিয়ে আমার রুমের দরজার সামনে রেখে দিয়েছিলেন। দরজা খুলে যখন আমি ওইটা দেখি তখন সব মান অভিমান ভুলে গিয়েছিলাম। আমার আনন্দ তখন দেখে কে? এমন আরো অনেক স্মৃতি ফরিদী ভাইয়ের সাথে আমার রয়েছে। উনি জানতেন যে উনার সহশিল্পী বাঁ তার কাছের মানুষগুলো কিসে আনন্দ পায় বা কিসে খুশি হয়। এটা ছিল উনার অনেক বড় একটা গুণ।

উনি (হুমায়ুন ফরীদি) আসলে এত বড় মাপের একজন মানুষ, যার কাছে আমি অনেক ক্ষুদ্র। কিন্তু সেই তুলনায় উনার কাছ থেকে যে পরিমান আদর, ভালবাসা আর স্নেহ পেয়েছি, যে পরিমান মূল্যায়ন পেয়েছি তা কখনোই ভুলবার নয়। আসলে একজন বড় মনের মানুষ হবার পাশাপাশি উনার মনটা এত উদার ছিল যে উনার ক্ষেত্রে আমি যতই বলব তত কম হবে।

আমার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা কখনই তার জন্য কমে নি। আমি এখনো তাঁকে অনেক মিস করি কারন আমার কাছে এখনো কোন স্ক্রীপ্ট আসলে কিছু ক্যারেক্টারে উনাকে ডিমান্ড করে। সেখানে উনার আজকের এই না থাকাটা খুব বেশি কষ্ট দেয় আমাকে। উনি যখন জীবিত ছিলেন তখন আমার কাছে কোন ক্রিটিক্যাল স্ক্রীপ্ট আসলে আমি ফরিদী ভাইকে বা সুবর্ণা আপাকে ফোন করে সাজেশান চাইতাম কি করে চরিত্রটাকে আরো ভাল করে ফুটিয়ে তোলা যায় সে বিষয়ে।

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের মাঝে হুমায়ুন ফরীদি সারাজীবন বেঁচে থাকবেন। উনি যেখানেই আছেন ভালো থাকবেন এবং মহান আল্লাহ্‌ উনাকে বেহেশত নসীব করুন এই দোয়া করি সবসময়।

/এটিএম ইমু