• রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

'সাহস-মেধার মনিকাঞ্চন জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর ভূবন'

প্রকাশ:  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৩৪ | আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৪১
ফিদা হাসান রিসলু
প্রিন্ট
অনেকেই কথা রাখেনি বলেই- অনেকেরই কথা রাখা হয়নি। নির্বাসন বুকে নেয়া ঘোলাটে চাঁদের মত তা-নিয়ে কোন বেদনাও জাগেনি। যদিও কিছু-কিছু না-রাখা ব্যথিত করে তখনি; ভাবনার অতলে গিয়ে নিজেকে খুঁজে ফিরি যখনি। আরো এক কষ্ট আছে; পালিয়ে বাঁচার স্বস্তি শেষে তীব্র-তুমুল কান্না আছে- ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর কাছে। ৯০ এর উথাল-পাতাল ছাত্র আন্দোলনের প্রধানতমদের অন্যতম তিনি; ছিলেন জাতীয় ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি। 

দূরারোগ্য ব্যাধিতে অকালে প্রয়াত এই সংশপ্তক ছাত্রনেতা মস্তিষ্কে টিউমার আক্রান্ত হওয়ার অল্প আগে আমাকে ডেকে নিলেন- তাঁর পুরানা পল্টনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে। ভরাট গলার এই সুদর্শন ভালো-মন্দের খবর নিয়ে বললেন অবশেষে, আত্মজীবনী লিখতে চাই; সেকারনেই তোকে সাথে রাখতে চাই। কোন কিছু না-ভেবেই ভালোবাসার সংক্রমণে বলেছি তাঁকে; থাকবো আপনার সাথে। কিভাবে লিখবেন তিনি, তার একটা গাইড লাইন দিয়ে বললেন যখন চোখ তাকিয়ে; বিষ্ময়ের তুঙ্গ ছুঁয়ে শুনছি তখন হৃ-কাঁপিয়ে: আমার জন্যে কয়েকটা এপিটাফ লিখে দে! - এখনি, এই অর্ধেক জীবনে এ কেমন চাওয়া আপনার! দায়িত্ব এড়াতে বিহবল আমি বলেছি-এ কথাও যে, আপনার হাতে গড়া সাহিত্যিক আনিসুল হক কিংবা আপনার অনুরাগী কর্মি, পশ্চিমবংগের বিখ্যাত কৃত্তিবাস পুরস্কারে ভূষিত কবি তারিক সুজাত আর দেশসেরা আবৃত্তিকার শিমুল মোস্তফা থাকতে আমি কেন! 

ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্বাস নিয়ে বললেন তিনি, পারবি বলেই বলেছি- তোকে। - হয়তে পারবো; লিখতে পারবো না তবুও' বলেই যখন বাড়িয়েছি পা, শুনছি তাঁর কন্ঠে তখন; মিনার মনসুরের কবিতা_ অবশেষে সমস্ত উচ্ছ্বাস নত হবে বিষন্ন ক্লান্তির কাছে; আমি জানতাম'। তখনো ভেবেছি, এখনো ভাবি: মেধার দূর্দান্ত দূরবীন দিয়ে দেখতেন যিনি আকাশ-আগামীর; হয়তোবা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি, ফুরিয়ে আসছে- জীবনের বিকিকিনি। তাই বুঝি পাহাড়ের বুক চিঁড়ে ধেয়ে আসা কোন এক ধাবমান ধীমান কিংবা উদ্দাম সমুদ্রের উচ্ছ্বলতার বুকে বাইচের নৌকার মত তর-তর করে বয়ে চলা এক যোদ্ধা-যৌবন, যেন তাঁর স্মৃতির সান্নিধ্যে এসে দেখে নিতে চাইছিলেন- ফেলে আসা পেছনের পরিব্রাজিত পরিভ্রমণ আর রেখে যেতে চাইছিলেন- হয়ে থাকা আখরের মাধুকরী বুনন।

অদম্য সাহস আর দ্যুতি ছড়ানো মেধার যূথবদ্ধ সন্মিলনে ছাত্র রাজনীতির প্রজ্জ্বলিত আগুনকে প্রশান্তির পরশ দিয়েছিলেন তিনি। সত্তর দশকের শেষপ্রান্তে বীরচট্রলার এই কৈশোরোতীর্ন তরুণ জনপদে ধেয়ে আসা সামরিক স্বৈরাচার আর তার গর্ভজাত সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল- প্রতিজ্ঞার প্রণতি নিয়ে। কলেজ শুরুর প্রথমদিনেই সাম্প্রদায়িক ছাত্র সংগঠন- শিবিরের হিংস্র আক্রমনে রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত হয়ে আগামীর আকাশে লিপিত করেন-জীবনের ভিন্নতর পাঠ। মুজিবাদর্শের নিষ্ঠাবান কর্মি হয়ে চট্রগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে সাহচার্যে আসেন, তৎকালীন চাকসুর জিএস জমির চৌধূরী, সাহিত্য সম্পাদক কবি মিনার মনসুর, ছাত্রলীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন প্রমুখদের। এসএসসির মত আবারো অবাক করা রেজাল্ট নিয়ে ভর্তি হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। 

ইতোমধ্যে প্রগতি-প্রতিক্রিয়ার কথিত দ্বন্দ্বের বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিজেকে যুক্ত করেন ছাত্রলীগের প্রগতিশীলতার সংগে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শৃঙ্খলিত পঠন পদ্ধতির সাথে ছাত্র-রাজনীতির প্রসারিত প্রাঙ্গনেও নিজেকে যুক্ত করেন সাহিত্য-সংস্কৃতির অমিয় ধারায়। আদর্শিক সান্নিধ্যের বাতায়নে পূর্ব থেকেই বন্ধু হয়ে আসা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মোজাম্মেল বাবুর সাথে যৌথভাবে প্রকাশ করেন, সাহিত্য সাময়িকী 'স্পর্শ'। এই স্পর্শ'র সংস্পর্শেই সাংবাদিক-সাহিত্যিক আনিসুল হক যুক্ত হন- ছাত্রলীগের সংগে। মেধা-মননে সমৃদ্ধ ছাত্রলীগের ওই বিভক্ত ধারা ৮৪ সালে এসে জাতীয় ছাত্রলীগের আকার পায়। খোরশেদ আলম সুজন, নুরুল ফজল বুলবুল, এম ইনায়েতুর রহিম প্রমুখদের নেতৃত্বাধীন এই ছাত্রলীগের প্রথম কমিটির গ্রন্থনা-প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু। ৮০'র দশকের মাঝামাঝি মুদ্রণশিল্পে প্রযুক্তির অভাবিত উত্তরণকে কাজে লাগিয়ে শিল্প-নন্দিত পোষ্টার প্রকাশে তিনি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।

 এভাবেই জয়নাল, জাফর, বসুনিয়া, সেলিম, দেলোয়ার প্রমুখ শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে, তীব্র-তুমুল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাথে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিশীলিত ধারার ছাত্র-রাজনীতির ঐতিহ্যে অবগাহন করে উঠে আসতে থাকে তার-সাথে একঝাঁক নতুন নেতৃত্ব। মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি টিংকু, মেধার সাথে সাহসের সন্নিবেশ ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও হয়ে উঠেন নায়কের প্রতিরূপ। জেনারেল এরশাদ সৃষ্ট কুখ্যাত নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ উৎখাতের ক্ষেত্রে প্রগতিশীল ছাত্রনেতাদের সাথে তিনিও পালন করেন বিরোচিত ভূমিকা। নেতৃত্বের সহজাত গুনাবলীকে কাজে লাগিয়ে ধাপে-ধাপে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি মোশতাক হোসেনকে ভিপি-জিএস মনোনীত করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত প্যানেলে নিজ সংগঠনের সন্মানজনক অবস্হানকে নিশ্চিত করেন। একই ধারাবাহিকতায় রাকসুতে ছাত্রমৈত্রী নেতা রাগিব আহসান মুন্নার ভিপি হয়ে উঠার পথ বেয়ে চাকসুতে জাতীয় ছাত্রলীগের অগ্রাধীকার প্রাধান্য পায়।

ছাত্রনেতা টিংকুর অসাধারন সাংগঠনিক দক্ষতা আর বুদ্ধিবৃত্তিক নৈপূণ্যে নাজিম উদ্দিন সেখানে ভিপি নির্বাচিত হন। তবে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই সর্বব্যাপী বিজয়রথের পাশে একক সংগঠন হিসাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও সাংগঠনিক বিশালতা নিয়ে সামনে চলে আসে। ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্হা হিসাবে ডাকসু-রাকসু যেমন নেতা নির্বাচনের কারখানা; একইভাবে ছাত্র সমাজের ক্ষুরধার চেতনার পর্যবেক্ষণ এবং নির্মানও বটে। এক্ষেত্রে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে কাংখিত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংগ্রাম পরিষদের ভেতরকার সমন্বয়হীনতা তার গ্রন্হিতে এক ধরনের ঢিলে ভাব নিয়ে আসে। বৃহত্তর ছাত্র সমাজের নিবিড় পর্যবেক্ষনে সেটি ছাত্রদলের পক্ষে চলে যায়; পরবর্তি নির্বাচন সমূহে যেটি দৃশ্যমান হয়ে উঠে। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের আভ্যন্তরিণ বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠলেও আমানুল্লা আমান আর খাইরুল কবির খোকন নতুন নেতা হিসাবে আবির্ভূত হন। অন্যদিকে সানাউল হক নিরু এবং গোলাম ফারুক অভিকে হিরোইজমের প্রতিক মনে করা হয়। 

এরইমধ্যে নব্বইয়ের ১০ অক্টোবর উল্লাপাড়ার জেহাদ নিহত হলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। ডাকসু সহ ছাত্রদলের সাথে সংগ্রাম পরিষদভুক্ত সংগঠনসমূহের সন্মিলনে গড়ে উঠে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। এই ঐক্য গড়ে উঠবার ক্ষেত্রে যে কয়েকজন ছাত্রনেতার অবদান অবিস্মরনীয়, তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু ছিলেন অন্যতম।মূলত ছাত্রসমাজের এই সূদৃঢ় ঐক্যের সাথে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নেতুত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ৭ দল আর ৫টি বামদলের যুগপৎ আন্দোলনে স্বৈরাচার এরশাদের পতন যখন সুনিশ্চিত, তখনই ঘটে অঘটন। ছাত্র সমাজের লৌহ দৃঢ় ঐক্যে ফাটল ধরাতে মাঠে নামেন ছাত্রদলের সেইসব কথিত হিরো, যারা একসময় সংগঠনের উত্থানে রেখেছিলেন সাহসী ভূমিকা। স্বৈরাচারের দোসর হিসাবে নিরু-অভির নেতৃত্বাধীন সেই অংশের আত্মঘাতি ভূমিকা স্বয়ং তাদের নেত্রীকেও ভাবিয়ে তোলে।

তিনি কথা বলেন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতৃবৃন্দের সংগে। সরকারের পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ন ছাত্রনেতাদের বহিস্কারের ইচছা পোষণ করে তিনি জানতে চান, ছাত্রনেতারা তাদের মোকাবেলা করতে পারবেন কি- না? ডাকসুর জিএস খাইরুল কবির খোকন ঘটনাবলী স্মরনে এনে বলেছেন, ছাত্রনেতা টিংকু ম্যাডামকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনি সিদ্ধান্ত নিন; বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের। ইতিহাস স্বাক্ষী, ছাত্র নামধারী সেইসব কুলাংগারদের অতর্কিত হামলায় ডাকসু ভবন, মধুর ক্যান্টিন, আইবিএ ভবন, লেকচার থিয়েটার, আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসসহ কলাভবনের বিভিন্ন হলে অবরুদ্ধ হাজার-হাজার ছাত্র-নেতা-কর্মিদের মধ্য থেকে জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু গগন বিদারী শ্লোগানে বেড়িয়ে এসে অস্ত্রধারী দালালদের ধাওয়া দিয়ে রাহুমুক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাংগন। সেদিনের সেই বীরত্বগাঁথা সমাগত স্বৈরাচার পতনের নির্দেশিকা হয়ে ছাত্রনেতা টিংকুকে ইতিহাসের অংশ করে নিয়েছে।

সিংহের হৃদয় নিয়ে জন্ম নেয়া আপাদমস্তক রোমান্টিক একজন ছাত্রনেতার অবয়বকে ধারন করে ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু শুধু সময়ের চাহিদায় পূরণ করেননি, রেখে গেছেন তাঁর কর্মের সর্বব্যপ্ত পরিধি। তবে স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা সংগঠন নির্মাণে যার নির্দেশনা হতে পারতো মানুষের ভরসা; পরবর্তিকালে বেদনাদায়কভাবে সেই অবস্হানে উপেক্ষিত থেকেছেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী হিসাবে একথা বুঝতে পারি যে, অনেক বড় সম্ভবনার স্বর্ণদুয়ার মেলে ধরতে পারতেন তিনি। আমরা যারা তাঁর কমিটিতে ছিলাম কিংবা যারা ছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মি আরো-কিংবা অন্যদল সংশ্লিষ্ট, সকলের সংগে হৃদ্যিক সম্পর্কের অবারিত সংশ্লেষে সম্পৃক্ত হতে চেয়েছেন ভাব-ভালোবাসার অচ্ছেদ্য বন্ধনে। 

তাই বুঝি, একজন জাকিরুল হক টিটনের মত আরও-আরও অনেকেরাও অন্যদলের সম্পৃক্ততা নিয়েও আজো খুঁজে ফেরে তাঁকে; জীবনের বিবিধ বাঁকে। দল-মত ছাড়িয়ে আপনার আলো দিয়ে অপরকে আলোকিত করা এই মানুষটি, শিক্ষা-সাহিত্য-শিল্পকলা-সংগীত-চলচ্চিত্র-খেলাধূলা, কোথায় রাখেন নি, তাঁর ভাবনার পরিধি? জীবন আর জগতের সবকিছুর মধ্য থেকে সত্য আর সুন্দরকে খুঁজে খুঁজে ফেরার মহান আকুতি এক জীবন থেকে অন্য জীবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়ে নিজেই একদিন ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ তে হারিয়ে গেলেন; প্রিয়তমা স্ত্রী খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন (মুন্নি)আর প্রিয়তম পুত্র-কন্যা ধ্রুব-শ্রেয়ার সাথে চেনা ভূবনের অসংখ্য জানাশোনাদের কাঁদিয়ে। কান্নার সেই কষ্ট মথিত বার্ষিকীর এই বেদনার্ত বাতায়নে আজ তাই খুঁজে-খুঁজে ফিরি নারাজীর সেইসব অক্ষররাজি, যা দিয়ে সাজাতে চাইছি- প্রয়াত সভাপতির স্মরণের সাজি_

মেধার সাথে সাহস যখন
মিলে-মিশে হয় একজন
দ্রোহ-প্রেমের জমাট বুনন
জ্বলে উঠে জীবন তখন।

সাহস-মেধার মনিকাঞ্চন
জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর ভূবন।