• রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

প্রধান বিচারপতিকে অতীত মনে করিয়ে দিলেন বার সভাপতি

প্রকাশ:  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে বিএনপির আমলে স্থায়ী হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তবে বিএনপি নেতা হিসেবে নন, বারের সভাপতি হিসেবে এ বক্তব্য দেন তিনি।

আজ সকালে প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জয়নুল বলেন, ‘আপনি ১৯৯৯ সালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন এবং ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আপনি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ওই সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। পরবর্তী সময়ে আপনার বিচারকার্যে দক্ষতা, যোগ্যতা ও বিচারিকসুলভ দায়িত্ব পালনের জন্য ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ লাভ করেন।’

তবে ডেপুটি আটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত বিচারক, আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কথা উচ্চারণ করেননি বার সভাপতি।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি বলেন, ‘দেশে আজ চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান। এই সুযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার জন্য ঢালাওভাবে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা করছেন। একেকটি মামলায় শত থেকে হাজার জনকে আসামি দেখানো হচ্ছে। আর অবাধে গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে।’

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতিও রক্ষা পায়নি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক মামলা দিয়ে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করছে, যা অতীতে আমরা কখনো দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘আপনার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করা এবং বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে যেভাবে বিদায় করা হয়েছে এবং এর ফলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে করে বিচার বিভাগ আজ মহাসংকটের সম্মুখীন। একদিকে নিম্ন আদালতগুলোর ওপর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অবাধ হস্তক্ষেপ অপরদিকে অসংখ্য মামলায় ভারাক্রান্ত নিম্ন আদালতগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত হচ্ছে লাখ লাখ মিথ্যা বানোয়াট রাজনৈতিক ফৌজদারি মামলা।'

যারাই নিরপেক্ষ বিচার করতে চান, তারা সরকারের অহেতুক চাপে ইচ্ছে করলেও নিরপেক্ষ বিচার করতে পারেন না। বিচার প্রার্থীরা আজ হতাশাগ্রস্ত এবং বিচার বিভাগের ওপর তাদের আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি।