• মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড গঠন

প্রকাশ:  ২৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

অবশেষে সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে নবম ওয়েজবোর্ড (মজুরি বোর্ড) গঠন করেছে সরকার। আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজামুল হককে চেয়ারম্যান ও সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী বা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সমসংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১৪৩ ধারা অনুযায়ী এই বোর্ড গঠন করে রোববার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। বোর্ড ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে।

আদেশে বলা হয়েছে, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ পর্যালোচনা করে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় নিয়োজিত সাংবাদিক, সাধারণ কর্মচারী ও প্রেস শ্রমিকদের জন্য বেতনভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সুপারিশ করবে। সুপারিশ প্রণয়নকালে সংবাদপত্র মজুরিবোর্ড সংবাদপত্রে বিদ্যমান আর্থিক অবস্থা ও সক্ষমতা, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকার, করপোরেশন এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য চাকরির মজুরির বিরাজমান হার, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল/এলাকার সংবাদ শিল্পের বিদ্যমান অবস্থা এবং বোর্ডের বিবেচনায় প্রাসঙ্গিক অন্যান্য অবস্থা বিবেচনা করে দেখবে।’

তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রেস) মো. মিজান-উল আলম নবম ওয়েজবোর্ড মজুরি বোর্ডের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় নবম সংবাদপত্র মজুরিবোর্ডকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

মজুরি বোর্ডে মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান, সহসভাপতি এ কে আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান চৌধুরী, সদস্য মাহফুজ আনাম ও তাসমীমা হোসেনকে বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের আহ্বায়ক এম জি কিবরিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক, বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মো. মতিউর রহমান তালুকদার ও মহাসচিব মো. খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশে ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপোপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনকে বোর্ডের সদস্য রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের ১৮ জুন অষ্টম ওয়েজবোর্ড গঠন করেছিল সরকার। এর কয়েক মাস পর ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা দেয়া হয়, যা ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়। আগের ওয়েজবোর্ড গঠনের পাঁচ বছর সাত মাসেরও বেশি সময় পর নতুন ওয়েজবোর্ড গঠন করল সরকার।

সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন গড়ে তাদের মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অষ্টম মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে সরকার, যা ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর থেকে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। এই দাবিতে দীর্ঘদিন কর্মসূচিও পালন করে তারা।

নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের কাজ এগিয়ে নিলেও সংবাদপত্রের মালিক সংগঠন নোয়াবের প্রতিনিধি না পাওয়ায় নতুন ওয়েজবোর্ড গঠন করতে পারছিল না তথ্য মন্ত্রণালয়।

কয়েক দফা সময় বেঁধে দিয়েও ওয়েজবোর্ড গঠন না করায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। এক পর্যায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্যমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়।

/এসএইচ