• রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

‘মহাবিপদ সংকেতের মুখে বিএনপি’

প্রকাশ:  ২৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৩৭ | আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় সামনে রেখে বিএনপি ‘তৃতীয়বারের মত মহাবিপদে’ পড়েছে বলে মনে করেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের রায় আসতে পারে তা ‘সহজেই আঁচ’ করা যায়।

রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে এক রেস্তোরাঁয় প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের এক সমাবেশে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোকনের এমন মন্তব্য আসে।

তিনি বলেন, ‘এবার বিএনপি মহাবিপদে পড়েছে তৃতীয় বারের মত। প্রথমবার পড়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের আমলে। সে সময় বিএনপির ৮০ ভাগ নেতা-কর্মীকে এরশাদের দলে ভিড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।’

খোকনের বিচারে বিএনপির দ্বিতীয় মহাবিপদটি এসেছিল ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে।

‘সে সময় শেখ হাসিনা চিকিৎসার অজুহাতে দেশত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া দেশত্যাগের প্রস্তাবে সায় দেননি।’

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তৃতীয়বারের মত বিএনপি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বর্তমান সময়ে। কারণ বিএনপি মনে করে বাংলাদেশ ফর বাংলাদেশিজ। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনে করে, বাংলাদেশ ফর ইন্ডিয়ানস অ্যাজওয়েল।’

এ কারণেই বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া ‘নিকট প্রতিবেশী একটি দেশের ষড়যন্ত্রের কবলে’ পড়েছেন বলে মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খোকন।

ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবে, যার প্রধান আসামি বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও এ মামলার আসামি। মুদ্রা পাচারের দায়ে সাত বছর কারাদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে।

বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ক্ষমতাসীনরা এ মামলার রায় আগেই ঠিক করে রেখেছে। নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে মাহবুবউদ্দিন খোকনও একই সুরে কথা বলেন।

“ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর বিচারপতি এস কে সিনহার অবস্থা গোটা সভ্য সমাজ অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করছে। এর আগে তারেক রহমানকে খালাস দিয়ে বাংলাদেশের এক ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রাণের ভয়ে সপরিবারে মালয়েশিয়ায় চলে যেতে হয়েছে।

“এমন পরিস্থিতিতে খুব সহজেই আঁচ করা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের রায় আসবে। কারণ বিচার বিভাগের বিচারপতিগণ এখন আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছেন।”

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘বর্তমান শাসকদের হাতে নিহত কিংবা গুম’ হওয়া বিএনপির সকল নেতা-কর্মীর তালিকা ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে।

‘কে হত্যা করেছে এবং কার নির্দেশে এ অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে, তাদের নামও রয়েছে সেখানে। সুতরাং সময় হলেই সব কিছু করা হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পূরণের জন্যে।’

আওয়ামী লীগের ‘হরিলুটের রাজত্বে’ গুম আর খুনের ভয়ে এখন কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না মন্তব্য করে এ অবস্থার উত্তরণে জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান খোকন।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘তৌহিদ স্মৃতি পরিষদ’ এর উদ্যোগে ব্রুকলিনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অন্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা জসীম ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, আহসান উল্লাহ বাচ্চু, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফোরামের নেতা নাসিম আহমেদ এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।