• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ, রেকর্ড সংখ্যক মানুষের মৃত্যু

প্রকাশ:  ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:২৮ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:১৪
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

বাংলাদশে বর্ষা মওসুম বিদায় হলওে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমছে না। সরকারি হিসেব মতে গত ১৫ বছরের মধ্যে ডেঙ্গুতে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

সরকারি হিসেবে বলা হয়েছে, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এ বছর ২৬৭৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪ জন। এর আগের বছর আক্রান্ত হয়েছিল সাড়ে তিনশর কিছু বেশি রোগী।

এবারে ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রকোপের মাত্রা বেশি হওয়ার যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে বর্ষা মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়াটাকে অন্যতম বলে মনে করছেন রোগ বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা জানিয়েছেন, এ বছর ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপের মধ্যে ডেন-৩তে আক্রান্ত হচ্ছে বেশির ভাগ মানুষ। এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ। তাছাড়া পরীক্ষা করে দেখা গেছে ডেঙ্গু নিয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা বেশিরভাগই দ্বিতীয়বারের মতো আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়াটা যেকোনো রোগীর জন্য ভয়াবহ। কেন না, প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বারের ভয়াবহতা প্রায় ২০০ গুণ বেশি। আক্রান্ত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে।

রাজধানীর বেসরকারী সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান জানান, গত পাঁচ মাসে এই হাসপাতালে শিশুসহ মোট এক হাজার ৪৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে ৫শ’ ৪২ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ এবং ৫০২ জন শিশু।’

ডা. মতিউর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের কাছে একজন রোগীর মৃত্যুও কাম্য নয়। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পরও চিকিৎসাধীন সহস্রাধিক রোগীর মধ্যে গত পাঁচ মাসে তিনজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।

গত ২৫ অক্টোবর রাতে এ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফরিন হক নামের ১১ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। আফরিনের পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডা. মতিউর রহমান বলেন, সুচিকিৎসা প্রদানে কারও অবহেলার সুযোগ নেই। শিশুটি খুবই খারাপ অবস্থা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল বল জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

পেডিয়েট্রিক ইউনিটের ডা. সুজিত কুমার রায় বলেন, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের অনেকেরই আকস্মিভাবে রক্তে প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকহারে কমে গিয়ে হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল (মাল্টিঅর্গান ফেইলিউর) হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করতে চাইছে না।

অধ্যাপক মতিউর রহমান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সুচিকিৎসায় আস্থা অর্জন করলেও মাঝে মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দায় চিকিৎসকের ওপর চাপিয়ে দেয়া, হাসপাতাল ভাংচুর ও চিকিৎসকদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করার ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে অন্যান্য হাসপাতালের মতো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করাতে চিকিৎসকরা ভয় পাবে। সেক্ষেত্রে রোগীদের সুচিকিৎসা ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: পার্স

/রবিউল

ডেঙ্গু জ্বর
apps