• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

কলমানি মার্কেটের লেনদেন তলানিতে থাকলেও হঠাৎ বেড়েছে লেনদেন

প্রকাশ:  ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৭:০৪
বিজনেস ডেস্ক
প্রিন্ট

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই টাকার লেনদেন বাড়ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েই ব্যাংকগুলোর লেনদেনও চলছে দ্রুত গতিতে। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই ঈদের আগে ব্যাংকগুলোয় টাকার ব্যাপক লেনদেন হয়ে থাকে; যার প্রভাব পড়ছে আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে। দীর্ঘদিন ধরে কলমানি মার্কেটের লেনদেন তলানিতে থাকলেও হঠাৎ করেই বাড়ছে এ লেনদেন। ফলে আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে লেনদেনের গড় সুদহার এক দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই দশমিক ১৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরই ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকা সংকট দেখা দেয়। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক কলমানি অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। নগদ টাকার সংকট বেশি হলে আন্তঃব্যাংক কলমানিতে বেশি সুদে অর্থ ধার করতে হয়। ফলে কলমানি মার্কেটে গড় সুদহার একটু বেড়েছে। তবে যতটা বাড়ার কথা ততটা বাড়েনি। কেননা, কয়েকটি ব্যাংক তারল্য সংকটের কথা বললেও তারা এখন সরকারি আমানত পাচ্ছে। তাই ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সংকটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। এক রাতের (ওভার নাইট) জন্য এই ধার দেওয়া হয়। এই ধার দেওয়া-নেওয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হয় আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে। নগদ টাকা ধারের চাহিদার ওপর এ মার্কেটের সুদহার ওঠানামা করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ২৩ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে গড় সুদহার ছিল দুই শতাংশের নিচে। তবে গত ১২ আগস্ট অনেকটা হঠাৎ করেই কলমানি মার্কেটে গড় সুদহার বেড়ে দাঁড়ায় দুই দশমিক ১৭ শতাংশ। এ সময়ে সর্বোচ্চ সুদহার দাঁড়িয়েছে পাঁচ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সুদহার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। যদিও গত ২০১৭ সালের আগস্টে কলমানি মার্কেটে গড় সুদহার ছিল সাড়ে তিন শতাংশের ওপর। সে তুলনায় চলতি বছরে কলমানি মার্কেটে গড় সুদহার অনেক কম। অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্টে ব্যাংকগুলোর মধ্যে ধার-দেনা অনেক কম হয়েছে।

বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, ছয় মাস আগেও কলমানি মার্কেটে টাকা খাটিয়ে ভালো সুদ পাওয়া যেত। এখন তা গড়ে দেড় শতাংশ নেমে এসেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় তারল্য সংকটের কারণে তখন কলমানি মার্কেটের সুদহার বেশি ছিল। তবে এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় আসতে শুরু করেছে। তাই ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটতে শুরু করেছে। ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কলমানি মার্কেটের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা অনেক কমেছে। যদিও ঈদকে কেন্দ্র করে সুদহার কিছুটা বাড়বে।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের কারণে আস্থার সংকটে ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলতে শুরু করেন আমানতকারীরা। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন। আবার আমদানি চাপ মেটাতে ব্যাংকগুলো নগদ টাকা দিয়ে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির কারণে অলস টাকার পাহাড় থেকে হঠাৎ অর্থসংকটে পড়তে শুরু করে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ফলে টাকা সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় আমানতের সুদহারের পাশাপাশি ঋণের সুদ হারও বেড়ে যায়। ওই সময় আন্তঃব্যাংক কলমানি রেটও কিছুটা বেড়েছিল। পরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) উদ্যোগে ব্যাংকঋণের সুদ ও আমানতের সুদহার নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। জুলাই মাসের প্রথম থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ এবং ছয় শতাংশ সুদে আমানত রাখার কথা বলা হয়। সব ব্যাংক তা মানেনি। পরে যেসব ব্যাংক এ নির্দেশনা মানেনি তারা গত ৯ আগস্ট থেকে মানবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

ওএফ

লেনদেন