• বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

গরমে বিক্রি বেড়েছে ওয়ালটন এসির

প্রকাশ:  ১১ জুন ২০১৮, ১০:৫৪ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৮, ১০:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

হঠাৎ করেই বেড়েছে গরম। গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপে চলতি মাসের শুরু থেকে গরম পড়লেও গত কয়েকদিনে গরম বেশ বেড়েছে। অসহনীয় গরমে প্রশান্তি পেতে সামর্থ্যবানরা ছুটছেন এয়ার কন্ডিশনার বা এসির শোরুমে। ফলে দেশব্যাপী হঠাৎ করে বেড়েছে এসি বিক্রি। বিক্রেতাদের মতে, দেশে তৈরি ওয়ালটন ব্র্যান্ডের এসিই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদ এবং গরম দুটি বিষয়কে সামনে রেখে ওয়ালটেনর এসি বিক্রি আরো বাড়বে বলে কর্তৃপক্ষের আশাবাদ।

ওয়ালটন সূত্রমতে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৩০ শতাংশেরও বেশি এসি বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে ওয়ালটনের নতুন মডেলের ইনভার্টার প্রযুক্তির ১.৫ টন ও ২ টনের স্মার্ট এসি। স্বাস্থ্যকর বাতাস প্রবাহ, তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ ও সঠিক বিটিইউ’র (ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট) নিশ্চয়তা এবং গ্রাহক বিশ্বের যে কোন প্রান্তে বসে নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় ব্যাপক গ্রাহকপ্রিয়তা পাচ্ছে ওয়ালটনের নতুন মডেলের এসব এসি। পাশাপাশি, দেশীয় প্রতিষ্ঠানটির ৫ টনের ক্যাসেট টাইপ কমার্শিয়াল এসিও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, গত মাসে স্থানীয় বাজারে ২ টনের নতুন মডেলের ইনভার্টার এসি ও ৫ টনের ক্যাসেট টাইপ কমার্শিয়াল এসি বাজারে এনেছে ওয়ালটন। বাজারে ছাড়ার অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রাহকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে ওয়ালটনের নতুন মডেলের এসব এসি।

উল্লেখ্য, ১২০০০ বিটিইউ (ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) কে বলা হয় এক টন। আমদানি করা এসিতে সঠিক বিটিইউ থাকে না। যা সাধারন ক্রেতার পক্ষে ধরা সম্ভব নয়। তবে ওয়ালটন দেশে তৈরি করছে বলে সঠিক বিটিইউ নিশ্চিত করছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানায় তৈরি এসি বিএবি স্বীকৃত নাসদাত ইউটিএস টেস্টিং ল্যাবে মান নিয়ন্ত্রণ করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

ওয়ালটনের সেলস বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ইভা রিজওয়ানা বলেন, এসি বিক্রির প্রধান মৌসুম গ্রীষ্মকাল। সারা বছরের মোট এসির প্রায় ৭০ শতাংশই এই সময়ে বিক্রি হয়। সম্প্রতি হঠাৎ গরম বেড়ে যাওয়ায় ওয়ালটন এসির চাহিদাও ও বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাপক পরিমান এসি বিক্রি হয়েছে ওয়ালটনের।

সেলস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এমদাদুল হক সরকার বলেন, স্থানীয় বাজারে চলতি বছরে আয়নাইজার ও ইনভার্টার প্রযুক্তির স্মার্ট এসি নিয়ে আসায় ওয়ালটন এসির বিক্রি বেড়েছে আশাতীত। নতুন মডেলের এসব এসিতে আয়োনাইজার প্রযুক্তি ব্যবহার করায় রুমের বাতাস থাকে ধূলা-ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। পাশাপাশি ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসার ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। এছাড়াও, গ্রাহক বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারেন ওয়ালটনের স্মার্ট এসি। এসব সুবিধার পাশাপাশি বাজারে একমাত্র ওয়ালটন এসিতেই রয়েছে সঠিক বিটিইউ’র নিশ্চয়তা ও ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা। মূলত, এসব সুবিধার প্রেক্ষিতে গ্রাহক পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ওয়ালটন এসি।

ওয়ালটন এসির সেলস বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগি অসংখ্য মডেলের এসি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে ওয়ালটন। এর মধ্যে ইনভার্টার প্রযুক্তির ১৮ হাজার বিটিইউ (দেড় টন) ও ২৪ হাজার বিটিইউ (দুই টন) ওয়ালটন স্মার্ট এসির দাম পড়ছে যথাক্রমে ৬৫ হাজার ও ৭৮ হাজার টাকা। শুধুমাত্র ইনভার্টার প্রযুক্তির দেড় টন ও দুই টন এসির দাম যথাক্রমে ৬৩ হাজার ৫’শ টাকা ও ৭৬ হাজার ৫’শ টাকা। আবার আয়োনাইজার প্রযুক্তির দেড় ও দুই টনের এসি পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে ৪৯ হাজার ৯’শ ও ৫৬ হাজার ৯’শ টাকায়। ১৭,২০০ বিটিইউ ওয়ালটন এসি মিলছে ৪৫ হাজার ৯’শ টাকায়। আর ১২০০০ (এক টন) বিটিইউ’র ওয়ালটন এসি পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ হাজার ৯’শ টাকায়।

ওয়ালটন এসির চিফ অপারেটিং অফিসার প্রকৌশলী ইসহাক রনি জানান, স্থানীয় বাজারে যেকোনো ব্র্যান্ডের চেয়ে উচ্চ গুণগতমানের ও সঠিক বিটিইউ’র এসি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে ওয়ালটন। একের পর এক বিশ্বের অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সংযোজন করা হচ্ছে ওয়ালটন এসিতে। এসির কন্ডেনশারে ব্যবহার করা হচ্ছে মরিচারোধক গোল্ডেন ফিন কালার প্রযুক্তি। এতে করে ওয়ালটন এসি হচ্ছে টেকসই দীর্ঘস্থায়ী।

তিনি আরো জানান, ওয়ালটনের ইনভার্টার প্রযুক্তির এসির কম্প্রেসারে রয়েছে টার্বোমুড। যা রুমের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে এনে রুমকে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা করে। এই প্রযুক্তিতে পিসিবি বা মাদারবোর্ডে স্থাপিত মাইক্রোপ্রসেসরের বিশেষ প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে রুমের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ রুমের তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি কম্প্রেসারের গতিও কমে আসে। ওয়ালটন এসির কম্প্রেসারে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বস্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এইচএফসি গ্যাসমুক্ত আর৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট।

উল্লেখ্য, নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে ওয়ালটনের প্রকৌশলীরা বাজারে নিয়ে এসেছে মুঠোফোনে নিয়ন্ত্রণযোগ্য আইওটি বেজড স্মার্ট এসি। এসিতে প্রতিদিন বা মাসিক বিল আসছে কত? ভোল্টেজ লো না হাই? কম্প্রেসার কি ওভারলোডে চলছে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে স্মার্ট এসি। দেশের বাজারে ওয়ালটনই প্রথমবারের মতো স্মার্ট এসি নিয়ে এসেছে।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক বিটিইউ ও উচ্চ গুণগতমানের নিশ্চয়তা, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও আউটলুক, সাশ্রয়ী মূল্য, ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ও দেশব্যাপী বিস্তৃত সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক থাকায় ওয়ালটন এসি এখন গ্রাহক চাহিদার শীর্ষে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটনের এসি।

উল্লেখ্য, ওয়ালটন এসির কম্প্রেসারে রয়েছে সর্বোচ্চ ৮ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। রয়েছে ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরসহ বর্তমানে ৪৩টি জেলা শহরে রয়েছে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরিচালিত সার্ভিস সেন্টার।