• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

জটিলতা ছাড়ছেনা মালয়েশিয়া বসবাসরত বাংলাদেশিদের

প্রকাশ:  ৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৪৭
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
ফাইল ছবি
প্রিন্ট

জটিলতা কাটছেনা মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হটকারি সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ মিশনের ইন্সট্যান্ট কন্স্যুলার সেবা বন্ধ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। খোজ নিয়ে  জানা গেছে, দূতাবাসের ইন্সট্যান্ট কন্স্যুলার সেবার মধ্যে ছিল বয়স, পুরাতন পাসপোর্ট নম্বর না থাকা এবং নামের সংশোধন। যে সেবাটি এমআরপি পাসপোর্ট নির্মানের শুরু থেকে এ সেবা দিয়ে আসছিল হাই কমিশন। কিন্তু বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এ হটকারি সিদ্ধান্তে মহাবিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা।  

হাতের লেখা পাসপোর্টের সাথে নতুন এমআরপির নাম বা বয়সে মিল না থাকা এবং বয়স ৪৫-এর বেশি থাকার কারণে ভিসার জন্য মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত আসতে হয় প্রতিনিয়ত। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মিশন দীর্ঘ দিন এমআরপি পাসপোটর্রে ৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায় এন্ডোজমেন্টের মাধ্যমে তৎক্ষণাত সমস্যা সমাধান করে আসছিল। 

কিন্তু গত ১ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে উন্নত সেবা প্রদান ও সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকা আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রজেক্ট ডিরেক্টর, এডিশনাল প্রজেক্টর ডিরেক্টরসহ ২৪ জনের একটি দল মালয়েশিয়ায় আসেন। এ সময় ৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায় এন্ডোজমেন্ট করে মিশনের ইন্সট্যান্ট কন্স্যুলার সেবার বিষয়টি ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে অবহিত করে। পাসপোর্ট, ভিসা ও পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ১৮ই জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেরণ করলে ২৫ জানুয়ারি থেকে ইন্সট্যান্ট কন্স্যুলার সেবা বন্ধ করে দেয় মিশন কর্তৃপক্ষ। এ সময় সংশোধনের জন্য নতুন নিয়ম করা হয়েছে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পের উপর প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এফিডেভিট, ল মিনিস্ট্রি ও ফরেন মিনিস্ট্রি থেকে সত্যায়িত করে অর্জিনাল কপি আনতে হবে এবং নতুন করে রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর নতুন পাসপোর্ট হাতে পাবে। তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। নিয়মনীতির এমন বেড়াজালে যা খেটে খাওয়া সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।  

এব্যাপারে মিশনের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ডিআইপির কোনো কর্মকর্তা আমাদের মিশনের সাথে এ বিষয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি। তারা নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে অবহিত করেছেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করি কিভাবে একজন সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকের সমস্যার সমধান করতে হয় সেটা আমাদের থেকে ভালো কেউ জানে না। 

এর আগে গত বছর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্ড-১/৮৬/২০০৯/১৩৫৫(৬৯), ব,পা,অ,/প্র:১/২৪৪/২০১৫/২৪৩৬(৭) স্বারকের সঙ্গে প্রবাসে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের কোনোটাই মিল থাকেনা।

পাসপোর্ট আবেদনকারীদের একটাই কথা। তারা প্রবাস থেকে দেশে রেমিটেন্স পাঠান। আর এই রেমিটেন্সে দেশ আজ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। প্রবাসীদের একটাই দাবি রেমিটেন্সের দিক বিবেচনা করে বয়স ও নাম জটিলতার সমস্যার সমাধানে দূতাবাস তথা সরকার যেন এগিয়ে আসে। তা-না হলে রেমিটেন্স যোদ্ধারা মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত রি-হিয়ারিং প্রোগ্রামের আওতায় বৈধ হওয়া থেকে বাদ পড়ে যাবে।

এ দিকে দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বছর জুড়ে ছিল আলোচনায়। গেলো বছর রি-হিয়ারিংয়ের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৬৫ হাজার কর্মী ভিসা পেয়েছেন এবং নিবন্ধিত প্রায় তিন লাখ ৩০ হাজার শ্রমিকের ভিসাসহ বৈধতার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দেশটির অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাম ও বয়স জটিলতা ছাড়াও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে ইমিগ্রেশন ফিঙ্গারিং এর পর লেভি পরিশোধ করে এক বছর ধরে ভিসা প্রাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।   

এ ছাড়া নাম ও বয়স জটিলতার কারণে কমপক্ষে ৫৫ হাজার কর্মী ভিসা পাননি। তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, ওই সব কর্মীর জটিলতা নিরসনের সুযোগ পাবেন নাকি দেশে ফিরতে হবে তা নিয়ে ২৯ জানুয়ারি পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশনের বড় কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দূতাবাসের কর্তারা। বৈঠকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন বয়স এবং নাম জটিলতায় যারা রয়েছেন তারা বৈধতার আওতায় আসবেননা কারন জটিলতা সৃষ্টি করেছেন আবেদন কারিরা। তবুও হাল ছাড়েননি দূতাবাসের কর্তারা। তারা প্রস্তাব রেখেছেন তাদেরকে বৈধ করে নিতে। 

এদিকে, অবৈধ প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ে যারা রেজিষ্ট্রেশন করে নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারেননি তারা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। অভিবাসন বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে অবৈধদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের। এর মধ্যে কেউ গ্রেফতার হলে দেশটির অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৫-বি এর অধীনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ১২ মাসের পর্যন্ত জেল অথবা উভয় দন্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।