• শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

মন্ত্রীর পরিচয়ে দালালী করতে গিয়ে প্রতারক আটক

প্রকাশ:  ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:২৯
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর পরিচয়ে দালালী করতে গিয়ে দূতাবাসে এক প্রতারক আটক হয়েছে। চট্টগ্রামের মোহাম্মদ  মোজাম্মেল হক নামক এক প্রতারককে আটক করেছে দূতাবাস। মিশন সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার স্থানিয় সময় বিকেল পৌনে চারটার দিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভিতরে লেবার কাউন্সেলর মো: সায়েদুল ইসলামের কক্ষে ' কই ফরিদ, ফরিদ কই? ঐ ফরিদ,,  করে উচ্চ স্বরে চিল্লাাতে চিল্লাতে প্রবেশ করে। 

এসময় তার সাথে ভুমি জেরনি সেন্ডিরিয়ান বারহাদ নামক কোম্পানির পরিচালক এ কুমার  ছিলেন।কাউন্সেলর তাদের বসতে বললে উক্ত পরিচালককে এটেস্টেশন সিস্টেম বুঝিয়ে বলা হলে তিনি বোঝেন।মোজাম্মেল নিজেকে ভুমি জেরনির পরিচালক পরিচয় দেয়। কিন্তু সিস্টেমে থাকা কোম্পানির প্রোফাইল এ মোজাম্মেল নামক কোন পরিচালকের নাম পাওয়া যায়নি। 

এতে আরো সন্দেহ হয়। তখন কোম্পানির পরিচালক কে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় যে, বাংলাদেশ থেকে ১৫০ জন কর্মী এনে দিবে এর বিনিময়ে তাকে পরিচালক করার প্রক্রিয়া চলছে।' তার আগে সে ঐ কোম্পানির পরিচালক পরিচয় দেয়।কোম্পানির পরিচালক জানান সে আরো বলেছে যে, সে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এর পরিচালক। কিন্তু ক্যাথারসিস জানিয়েছে সে তাদের কেউ না। মূলত সে দূতাবাস থেকে এটেস্টেশন করিয়ে দিবে একথা বলে ঐ কোম্পানি থেকে ২০ হাজার রিংঙ্গিত নিয়েছে বলে জানা যায়।
 
দূতাবাস সূত্রে জানান গেছে যে, ভুমি জেরনি সেন্ডিরিয়ান সার্ভিস কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ১৫০ জন ক্লিনার পদে লোক আনার অনুমতি পেয়েছে এবং ১৮ জানুযারি অনলাইনে দূতাবাসের পোর্টালে এসেছে এখন দূতাবাস ঐ কোম্পানিতে আসলেই কাজ আছে কিনা, ১৫০ জন লোক লাগবে কি না, থাকার কি ব্যবস্থা, বেতন ভাতা ঠিকমত দেয় কিনা এসব যাচাই করে অনুমতি দিবে। তার আগেই বাইপাস করে বা প্রেসার দিয়ে কাজ করানোর চেষ্টা করে। 

এর আগে তিনি দূতাবাসে ২য় সচিব শ্রম ফরিদ আহমেদকে ফোনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এর নাম করে চাপ সৃষ্টি করে, ঐ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার কথা বলে, দুই গাড়ি পুলিশ দিয়ে তাকে দূতাবাস থেকে তুলে নেয়া এবং বাসায় লোক পাঠিয়ে হেনস্থা করার হুমকি দেয়। এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করাতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে দূতাবাসে কটুকথা বলে।একপর্যায়ে জি টু জি প্লাস মেকাজিম ও সসিস্টেম নিয়েও কটাক্ষ করে।ঘুষের বিষয়ে উপস্থিত ভুমি জজেরনির পরিচালক জানায়, ফরিদ কখনই ঘুষ চায় নি। তারা কাউকে ঘুষ দেয়নি।
 
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর অফিসে খোজ নিয়ে জানা গেছে, মোজাম্মেলকে চিনে না এবং ক্যাথারসিস ও চিনেনা বলে জানান তারা। সে সময় উপস্থিত প্রবাসী কমিউনিটি ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহিদুর রহমান জানান, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বমন্বয়ে জি টু জি-প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ চলছে।এখানে প্রতারণা করে কেউ পার পাবেনা।মোজাম্মেল যে কাজ করেছে দূতাবাসের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান কামাল জানান, দূতাবাস তার পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার ও মালয়েশিয়া সরকার দ্বি-পাক্ষিক চুক্তিতে জিটুজি-প্লাস প্রক্রিয়ায় শ্রমিক মালয়েশিয়ায় আসছে। প্রতারক বা দালাল হুমকি প্রদর্শন করে সরকারের সফলতাকে অম্লান করার চেষ্টা চলছে।সেটা কখনও হতে দেয়া যাবেনা। মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন এ নেতা।
   
ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েও সে কারো কাছে বলে যে, দূতাবাসের লেবার উইং এর কর্মকর্তাদের বাসায় কিছু করা যায় কি না। এ বিষয়ে দূতাবাস মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করেছে।

কোন এক গড ফাদারের সহযোগিতায় সে দূতাবাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে ধারনা করছেন প্রবাসীররা।উল্লেখ্য, দুই বছর আগে মোজাম্মেল নকল পাসপোর্ট করার মেশিন সহ ধরা পড়েছিল মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে।