• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ঢালিউডের নারী নির্মাতারা

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:২১
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে নারী অধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও অংশগ্রহণ জেন্ডারভিত্তিক অসম ক্ষমতা-সম্পর্কের ভেতরে সম্পন্ন হয়। স্বাধীনতা উত্তরকালে নারীর প্রান্তিকতা ও পশ্চাৎপদতার প্রেক্ষাপটে নারী উন্নয়নের প্রয়াস যেমন উৎসাহব্যাঞ্জক, নারী উদ্ধারে জাতীয় সংরক্ষণ নীতি গ্রহণ ও তার সম্প্রসারণ তেমনি লক্ষণীয়। এসব নীতি ও আইন প্রণীত হলেও প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের অভাবে নারী সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্রমাগতভাবে বঞ্চনার শিকার হয়ে চলেছে। তবে এর পাশাপাশি নারীর ভাগ্যোন্নয়ন ও উত্তরণের লক্ষ্যে যে নারী আন্দোলন, জনসচেতনতা সৃষ্টি, এনজিও প্রচেষ্টা ও বৈশ্বিক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে, তা অবশ্যই আশার সঞ্চার করে।

বাংলাদেশে নানান প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা সিনেমা পরিচালনার পেশায় সহজে আসতে চান না। তবুও কিছুকিছু নারীরা এ মাধ্যমে বেশ দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন। তারা তাদের কাজে সফলতাও পাচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রশংসিতও হচ্ছেন নানামহলে। ঢালিউডের এমন কয়েকজন নারী নির্মাতা ও তাদের কাজ সম্পর্কে জেনে নিন।

বাংলা চলচ্চিত্রে নারী নির্মাতাদের পথচলা শুরু হয় রেবেকার মাধ্যমে। তিনি ১৯৭০ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘বিন্দু থেকে বৃত্ত’ ছবিটি। এরপরে অভিনেত্রী রোজি আফসারি ১৯৮৬ সালে নির্মাণ করেন ‘আশা নিরাশা’ ছবিটি। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় অভিনেত্রী সুজাতা পরিচালিত ‘অর্পণ’ ছবিটি। ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় অভিনেত্রী সুচন্দা পরিচালিত ‘সবুজ কোট কালো চশমা’ ছবিটি। ২০০২ সালে মুক্তি পায় ইমপ্রেস প্রযোজিত নারগিস আখতার পরিচালিত এইচআইভি এইডস নিয়ে প্রথম ছবি ‘মেঘলা আকাশ’। ২০০৩ সালে মুক্তি পায় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত মৌসুমী পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় সুচন্দা পরিচালিত ২য় ছবি সরকারী অনুদানে নির্মিত জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে ‘হাজার বছর ধরে’। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় নারগিস আখতার পরিচালিত ২য় ছবি ‘চার সতীনের ঘর’। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় মৌসুমী পরিচালিত ২য় ছবি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত কাজী নজরুলের ছোট গল্প অবলম্বনে ‘মেহের নেগার’ (যৌথ পরিচালক গুলজার) । ২০০৬ সালে মুক্তি পায় কবরী পরিচালিত এসিড সন্ত্রাস নিয়ে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ‘আয়না’। ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত ‘অন্তর্যাত্রা’ (যৌথ পরিচালক তারেক মাসুদ)। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় এনটিভি প্রযোজিত সামিয়া জামান পরিচালিত ‘রানীকুঠির বাকি ইতিহাস’। ২০০৮ সালে মুক্তি পায় নারগিস আখতার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ এর সিক্যুয়েল ‘মেঘের কোলে রোদ’।

২০১০ সালে মুক্তি পায় নারগিস আখতার পরিচালিত ৪র্থ ছবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সমাপ্তি অবলম্বনে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি ‘অবুঝ বউ’। ২০১০ সালে মুক্তি পায় ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত ‘রানওয়ে’ (যৌথ পরিচালক তারেক মাসুদ) ২০১১ সালে মুক্তি পায় রুবাইয়াৎ হোসেন পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’। ২০১২ সালে মুক্তি পায় শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ‘উত্তরের সুর’। ২০১৪ সালে মুক্তি পায় সামিয়া জামান পরিচালিত ২য় ছবি সরকারী অনুদান ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘আকাশ কত দূরে’। ২০১৫ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সরকারী অনুদানে নির্মিত সিনেমা ‘মহুয়া সুন্দরী’ যা পরিচালনা করেন রওশন আরা নিপা। দীর্ঘ ৮ বছর অপেক্ষার পর ২০১৬ মুক্তি পায় নারগিস আক্তার পরিচালিত ছবি ‘পৌষ মাসের পিরীত’। একই বছর ২০১৬ সালে নন্দিত নির্মাতা ও উপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওনের পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘কৃষ্ণপক্ষ’। সবশেষ ২০১৭ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনা ও পরিবেশনায় এবং অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদের পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘ভালোবাসা এমনই হয়’ চলচ্চিত্রটি।

/এটিএম

apps