• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

নাটক নিয়েই বেশ ভাল আছি: নিলয়

প্রকাশ:  ২১ মে ২০১৮, ১৬:২০ | আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:২৫
মাকসুদুল হক ইমু
প্রিন্ট
নিলয় আলমগীর

নিলয় আলমগীর একজন বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেতা। জন্মস্থান ঢাকার অদূরে সাভারে। ছোটবেলাটা কেটেছে সেখানেই। তিন ভাই বোনের মাঝে সবার ছোট নিলয়। বড়বোন ও বড় ভাই দুজনেই থাকেন দেশের বাইরে। বাবা আর মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন তিনি।

২০০৯ সালে বেসরকারী টিভি চ্যানেল এনটিভি আয়োজিত ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী সুপার হিরো সুপার হিরোইন’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন নিলয়। এরপর চলচ্চিত্র ও টিভি মিডিয়াতে তিনি যাত্রা শুরু করেন। মাসুদ কাইনাৎ পরিচালিত ‘বেইলী রোড’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ তাঁর। সর্বশেষ সিনেমা ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ যা ২০১৪ সালের ২৯ আগস্ট সারাদেশে মুক্তি পায়।

এছাড়া বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন সময়ের আলোচিত এই মডেল ও অভিনেতা। বর্তমানে তার ব্যস্ত সময় কাটছে ছোটপর্দায়। প্রায় প্রতিদিনই করতে হচ্ছে শ্যুটিং। এই ব্যস্ততার মাঝে আজ তার সাথে কথা হয় পূর্বপশ্চিমের। নিলয় আলমগীরের সাথে আলাপচারীতার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:

নিলয় ভাই কেমন আছেন?

নিলয়: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

কি কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

নিলয়: এইতো বেশী ব্যস্ততা ঈদের কাজ নিয়ে। তাছাড়া আজ একটি ব্যতিক্রমী নাটকের কাজ করছি। এর নাম ‘মায়া মসনদ’। এটি নির্মাণ করছেন এস এম সালাহউদ্দীন। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একটি কাজ বলতে পারেন।

চলচ্চিত্র, নাটক ও বিজ্ঞাপন এই তিন বিভাগের মাঝে কোনটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?

নিলয়: একটা সময় মডেলিং করাটা খুব ভালো লাগত আর এখন অভিনয় খুব ভালো লাগে। আর অভিনয়ের জন্য বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করি নাটকে কাজ করে।

মিডিয়ায় কাজের শুরুটা যদি বলতেন?

নিলয়: ২০০৯ সালের নভেম্বরে এনটিভির সুপার হিরো সুপার হিরোইন এর ফাইনাল শেষ হয়। ২০১০ সাল থেকে আমরা যারা ওই প্রতিযোগীতায় ছিলাম তারা কাজের জন্য নেমে পড়ি। আমাদেরকে নিয়ে এনটিভিরও একটা প্ল্যান ছিল যে আমাদের নিয়ে তারা সিনেমা বানাবেন ও আরো বেশ কিছু কাজ করবেন। আমার মনে আছে তখন একটা ঈদের মধ্যে পুরনো দিনের গানের সাথে আমাদের টপ ছয় কাপল কে নিয়ে মিউজিক ভিডিও বানায়। সে কাজ করার পরে আমি দুই হাজার টাকা পেমেন্ট পাই। এরপর আমি একটা সিনেমা সাইন করি যার নাম ছিল ‘আদম’। সিনেমাটিতে সাইন করার পর আমি প্রথম সিনেমার জন্য রেমুনারেশন পাই এক লক্ষ টাকা। যতদূর মনে আছে আমার সাথে তখন বসুন্ধরা সিটিতে সৈকত সালাহউদ্দীন ভাইও ছিলেন। সেই ছবিতে আমার কো-আর্টিষ্ট ছিলেন মিশা ভাই। আদম ছবিটি দুইদিন শ্যূট করার পর আর কোন কাজ হয় নাই। এরপরই আমি সাইন করি আরেকটি ছবিতে যার নাম ছিল ‘বেইলী রোড’। যার পরিচালক ছিলেন মাসুদ কাইনাৎ। একই বছরের শেষের দিকে আমি বাংলালিংক এর বিজ্ঞাপনের জন্য ক্যারটকম নামক এজেন্সিতে অডিশন দেই ও তাতে সিলেক্ট হই। আর তখন থেকেই মোটামোটি কাজের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়।

নাটকে বা ছোটপর্দায় আপনার প্রথম কাজ কি ছিল?

নিলয়: ২০১১ সালে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী আমাকে বলেন, একটা নাটকে কাজ করা লাগবে। তখন আমি তাকে বলি,আপু আমি তো ফিল্ম করতে চাইছিলাম,নাটকে কাজ করতে চাচ্ছি না। তখন তিনি বললেন,শোন একটা ভালো স্ক্রিপ্ট আছে যা লিখেন আমাদের রিচি সোলাইমান,কাজটা করতে পারো ভালো লাগবে। তখন আমি প্রথম টিভি নাটকে কাজ করি।

আপনার বড় পর্দায় অভিষেক কবে হয়?

নিলয়: ২০১১ সালের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে আমার প্রথম ছবি ‘বেইলী রোড’ হলে মুক্তি পায়। আমি সেদিন খুব উচ্ছ্বসিত ছিলাম। আর একটা কথা না বললেই না, সে সময়ে আমাকে সকল সাংবাদিক ভাইয়েরা খুব সাপোর্ট দিয়েছিল। তারা সেসময় আমার ছবিটি নিয়ে প্রচুর নিউজ করেছিলেন। এরপর আমার আরো তিনটি ছবি রিলিজ পায়। একটি হাবিবুর রহমান এর ‘রুপগাওয়াল’,২০১২ সালে সানিয়াত হোসেনের ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ ও বেলাল আহমেদের ‘ভালবাসবোইতো’। এখানেই আমার সিনেমার গল্প শেষ। বলা যায় ২০১২ সালের শেষের দিক থেকে আমি ছোটপর্দায় নিয়মিত হয়ে যাই ধারাবাহিক নাটক ও একক নাটকের কাজে।

সিনেমায় তখন আর কাজ করেননি কেন?

নিলয়: আসলে কিছুক্ষণ আগে যে বললাম, ২০১২ সালের শেষদিক থেকেই আমার নাটক টেলিফিল্মের কাজ বেড়ে যায় যে কারণে আর বড়পর্দায় কাজ করা হয়ে উঠেনি। আর একটা কারণ যদি আমি বলি, তবে বলব ফিল্ম থেকেও আমিও খুব বেশি একটা পজেটিভ রেসপন্স না পাওয়াতেই আর কাজ করা হয়নি সেখানে। যে কারণে আর চেষ্টাও করিনি সেরকম। নাটকের ব্যস্ততার কারণে ফিল্মের লোকদের সাথে যোগাযোগ কমে যেতে থাকে আর ফিল্মের জন্য সে পরিমাণ সময়ও তখন দিতে পারতাম না বলেই আর কাজ করা হয়নি।

কোন কোন পরিচালকদের সাথে কাজ করে খুব স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?

নিলয়: আসলে শিল্পী হিসেবে সকল পরিচালকের সাথেই কাজ করতে হয় আমাদের। সকলের সাথেই কাজ করে আনন্দ পাই। তবে কিছু মানুষ তো আছেন যাদের সেটে কাজ করে বেশী স্বাচ্ছন্দ পাই তাদের মাঝে আছেন নির্মাতা সালাহ উদ্দীন লাভলু,কায়সার আহমেদ,ফেরদৌস হাসান,কৌশিক শংকর দাস,গোলাম সোহরাব দোদুল,সোহেল আরমান ভাইসহ এরকম আরো বেশ কয়েকজন ভালো ভালো পরিচালকদের সাথে কাজ করতে বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করি।

চলচ্চিত্রের পাশাপশি বিজ্ঞাপনেও আপনার উপস্থিতি কম,এইটা কেন?

নিলয়: আসলে বিজ্ঞাপন এখন একদমই করা হচ্ছে না। প্রথম দিকে যখন বিজ্ঞাপন করতাম মানে ২০১০ সালের শেষের দিক থেকে ২০১২ সাল নাগাদ খুব বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি। ২০১৩ সালে যখন আমি নাটকে নিয়মিত হয়ে যাই তখন মূলত বিজ্ঞাপনেও আমার দূরত্বের জায়গা তৈরী হয়। কারণ ধারাবাহিক বা একক যাই করি না কেন,নির্দিষ্ট একটা সময় সেখানে দেয়া থাকে বেশ আগ থেকেই। বিজ্ঞাপনে যাদের সাথে আমি কাজ করতাম সেসময়ে, তারা ফোন দিয়ে বিজ্ঞাপনে কাজের কথা বললে আমি তাদেরকে সময় দিয়ে পারতাম না নাটকের জন্য। পরে একসময় তারাই বলত ভাই আপনি তো ব্যস্ত হয়ে গেছেন সিডিউল পাওয়াই দায়। এরকম ভাবে বিজ্ঞাপনের কাজও কমে এসেছিল। তারপরও আমি বলব আমি নাটক নিয়ে বেশ ভালই আছি। আর নাটকে ব্যস্ত আছি তাই অন্য কোথাও যোগাযোগও করা হয়না।

ঈদ উপলক্ষ্যে আগে তো অনেক ফ্যাশন হাউজের কাজ করতেন,এখন?

নিলয়: হুম, আগে ঈদের সময় অনেক ফ্যাশন হাউজের কাজ করতাম। ঈদের নাটকের কাজের জন্য আগে যেভাবে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের কাজ করতাম তা এখন আর করতে পারিনা। আগে এমনও দিন গেছে একদিনে তিনটা হাউজের জন্য ফটোশ্যুট করতাম। ঈদের আগে সব হাউজে দেখতাম আমার ছবি লাগানো আছে। এখন আর সে কাজগুলো করতে পারিনা। তবে সম্প্রতি একটা ফটোশ্যুট করেছি আমি, ইমরান ও নিরব ভাই একসাথে।

সম্প্রতি আপনি অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণের দিকে ঝুঁকেছেন,এ নিয়ে কিছু বলুন?

নিলয়: অভিনয় করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে আমি আমার একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি। সেই ইউটিউব চ্যানেলটির জন্য কিছু প্রোডাকশন বানিয়েছি এই যা। তবে আমার এই নির্দেশনা দেয়ার পেছনে আমাদের পরিচালক সালাহ উদ্দীন লাভলু ভাইয়ের বেশ অবদান আছে। আমার ডিরেকশন শিক্ষার গুরু তিনি। তার সাথে যখন কোন শ্যুটিং এ যাই তখন উনি আমার সাথে তার নাটকের শর্ট ডিভিশন নিয়ে কথা বলেন। কিভাবে একটা শট নেয়া যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করেন। এথেকেই মূলত আমি নির্মাণের প্রতি আগ্রহ পেয়েছি।

বর্তমানে অনেকেই বলেন নাটকের অবস্থা ভাল না,আপনি কি মনে করেন?

নিলয়: একটা কথা বলি,আমরা যখন মিডিয়াতে এসেছি তখন থেকেই অনেক সিনিয়রদের বলতে শুনেছি,ইশ তোমরা খুব খারাপ একটা সময়ে কাজ করতে আসছো। আগে খুব ভালো সময় ছিল নাটকের এই সেই নানান কিছু। আমার তো দেখতে দেখতে আট বছয় হয়ে গেলো,এখনো শুনি খারাপ সময় চলছে। এখন আমার প্রশ্ন হল ভালো সময় তাহলে কোনটা? আমি মনে করি, এটাই ভালো সময়,প্রেজেন্ট টাইম ইজ দ্যা বেষ্ট টাইম। তবে ডিফিকাল্টিজ সব সময়েই থাকবে,কারণ সময় পরিবর্তনে সাথে সাথে সিষ্টেম পরিবর্তন হবে সিষ্টেম পরিবর্তনের সাথে সাথে আবার নতুন ডিফিকাল্টিজ আসবে। সেগুলোকে উৎরিয়ে যাওয়াটাই তো আমাদের কাজ। আগের সময়টাকে ধরে বসে থাকলে তো চলবে না। শুনেছি অনেকেই বলে আগে বাজেট ছিল এত,আগে স্ক্রিপ্ট ছিল এই,এগুলা বললে হবে না। আগে চ্যানেল ছিল কম কাজের জন্য বাজেটও বেশি ছিল। এখন সেই তুলনায় চ্যানেল বেড়ে গেছে। যার ফলে নাটকের বাজেট কমে গেছে তুলনামূলকভাবে। এক কথায় সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

দর্শকশ্রোতা ও আপনার ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন

নিলয়: দর্শকরাই আমাদের মূল প্রাণশক্তি। তারা যদি আমাকে বা আমাদেরকে ভাল না বাসতো তাহলে আমি আজকে নিলয় আলমগীর হতে পারতাম না। আমরা আমাদের কাজগুলো বানাই দর্শকদের দেখানোর জন্য। তাই আমি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলব আপনারা আমাদের বাংলা নাটক দেখুন,আকাশ সংস্কৃতির এ যুগে আমাদের দেশের দর্শকেরা যদি আমাদের নিজেদের কাজ না দেখেন তাহলে আমরা নতুন ভালো কাজ করতে উৎসাহ পাবো না। তাই আপনারা আমাদের সাথে থাকলে আমরা আরো ভাল ভাল কাজ আপনাদের উপহার দিতে পারবো।

পূর্বপশ্চিমকে সময় দেয়ায় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

নিলয়: আপনাকে ও পূর্বপশ্চিম নিউজকেও অনেক ধন্যবাদ।

নিলয় আলমগীর
apps