• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

বিশ বছর আগে আমার প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি

প্রকাশ:  ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:০২
পল ডেভিড বারিকদার
প্রিন্ট

আমার এবং বাংলাদেশের প্রকাশনায় প্রথম ব্যবহৃত ডিজিটাল ক্যমেরার গল্প।

Sony Cyber Shot, 3.2 megapixel.

ছবিটা আমার পেশাগত জীবনের সবচেয়ে রঙ মাখানো সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। বিকেলে তখনকার সহকর্মী Tuhin Hossain ছবিটি পুরানো কোনো এক ছবির সিডির মধ্যে খুঁজে পায়।

আমি তখন সাপ্তাহিক ২০০০ ও পাক্ষিক আনন্দধারায় কর্মরত। ক্যালেন্ডারে সালটাও ২০০০। আমাদের সম্পাদক শাহাদৎ চৌধুরী আমেরিকা বেড়াতে যাছেন। এর কিছু দিন আগে আমিও যেন কোথায় থেকে ঘুড়ে এসেছি, ঠিক মনে নেই এখন। আমাকে বলেন অফিস পাহারা দাও আমি ঘুরে আসছি। শাহদাৎ ভাই বয়সে আমার বাবার সমান হলেও কাজের প্রয়োজনে ততদিনে আমরা বন্ধু হয়ে গেছি। শাহাদৎ ভাই আমার কাছে জানতে চাইলেন আমার কোনো বায়না আছে কিনা। আমি অনেক সংকোচে বলি ডিজিটাল ক্যমেরার কথা। প্রথমে আপত্তি থাকলেও পরে যখন বুঝাতে পারলাম যে কাগজের খরচ কমবে, সময় বাচবে তখন কিছুটা আশার আলো দেখা গেল। তিনি অবশ্য আমেরিকা থেকে ডিজিটাল ক্যামেরাটি কিনে এনেছিলেন।

ডিজিটাল ক্যামেরা হিসাবে এটা এতটাই প্রিমিটিভ ছিল যে প্রফেশনালরা তখনো এটাকে কোনো ক্যামেরা হিসাবে মনেই করতেন না।

কোনো RAW ছবি তোলা যেত না। শুধু JPEGTIFF মুডে ছবি তুলতে হতো। Tiff মুডে ছবি তুলতে হলে প্রায় ৩০ সেকেন্ড সময় লাগতো ছবি সেভ হতে। মেমরি কার্ড ছিল মাত্র ১৬ মেহাবাইটের। চারটা ছবি তুলেই দোতালার স্টুডিও থেকে নিচে কম্পিউটার সেকশসনে এসে ডাউনলোড দিতে হতো। তখনকার চীফ গ্রাফিক ডিজাইনার Nurul Kabir Shabu ভাই পরবর্তি কাজগুলো এগিয়ে নিতেন।

আমাদের জেনারেল ম্যনেজার আলম ভাই আর শাহাদৎ ভাই আমার চাহিদা গুলোকে দুষ্টামি করে বায়না বলেই সম্মোধন করতেন। অফিসে কাগজে যোগদেবার পর থেকেই আমি সবসময়ই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি একটার পর একটা কিনে যাছিলাম। প্রথমে অফিসে চাইতাম, না পাওয়া গেলে শাহদাৎ ভাই, সেখানেও ফল না মিললে নিজেই কিনে নিতাম। পরে দেখা যেত যন্ত্রটি ঠিকই অফিসের কাজে লেগেছে। ফটোগ্রাফি প্রধানত একটি যন্ত্রকৌশল, একারনে সবসময় কিচ্ছু না কিছু আপগ্রেড ও আপডেটের প্রয়োজন পরে। আর এই আপডেট থাকাটা আমার একটা বাতিকও হয়ে দাড়িয়ে ছিল সে সময়। ফটোগ্রাফির ইতিহাসে ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৫ সবচেয়ে অস্হির সময় কেটেছে, সে সময় টেকনোলজি এত ঘনঘন পরিবর্তন হয়েছে, যে আমরা সবাই এক রকম হাপিয়ে উঠছিলাম। আমার এই বাতিকের প্রতি অফিসের কিছুটা সম্মতি ছিলও বটে, সেটা অবশ্য এখন বুঝতে পারি। আনন্দধারা দেশের তখন একমাত্র রঙিন সেলিব্রেটি ম্যাগাজিন, যার দ্বিতীয় সংখ্যা থেকেই আশানুরুপ কাটতি তৈরী হয়েছিল বাজারে। এবং কাগজের প্রধান কনটেন্টই ছিল ছবি। তাই বায়না বলি আর আবদারই বলি চীফ ফটোগ্রাফারে চাহিদাটা যে মিটতেই হবে। তবে এই ক্যমেরা কাগজের সকলের মাঝেই বেশ নতুন প্রানের সঞ্চার ঘটিয়ে ছিল। আনন্দধারার নির্বাহী সম্পাদক Arun Chowdhuri, চীফ রিপোর্টার Faria Hossain, সাব এডিটর ও বন্ধু Shamim Ahmed ভীষন ভালবাসার পাত্র হয়ে উঠি ছিলাম।

শমী কায়সাররে এ ছবিটি বহুবার কাগজে ব্যবহার হয়েছে। কোনো রকম এডিটিং ছাড়াই এখানে ব্যবহার করা হলো।

লেখকঃ পল ডেভিড বারিকদার; সিনিয়র ফটোগ্রাফার।

(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)

apps