• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

নারীবাদ মানে গালিগালাজ আর হস্তমৈথুন!

প্রকাশ:  ১৩ জুন ২০১৮, ২২:১৪ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২২:১৭
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট

মেয়ে মহলের আপন কথা পর্দায় দেখানোর সাহস করেছে পরিচালক শশাঙ্ক ঘোষ। তাইতো ‘ভিরে দি ওয়াডিং’ মুক্তির পর থেকেই সমালোচনায় জর্জতির নায়িকারা। একের পর এক কটাক্ষের শিকার হয়ে চলেছেন সুন্দরীরা। এবার সেই লিস্ট নয়া মুখ সিবিএফসি-র সদস্য বাণী ত্রিপাঠী। তার স্পষ্ট বক্তব্য, কীভাবে এই দৃশ্যগুলো মহিলাদের ক্ষমতায়নের মাপকাঠি হতে পারে?

বাণী ত্রিপাঠী কথায়, ‌‘ভিরে দি ওয়াডিং’ লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা করার একটি বিকৃত প্রক্রিয়া।

তাই এই সিনেমার চলচ্চিত্রকারদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, পুরুষদের সঙ্গে সমতা এই সমস্ত ভুল বিষয়কে মাপকাঠি করে কী অর্জন করা যায়? একই সঙ্গে তিনি আরও জানতে চান, এই সিনেমায় নায়িকাদের যেভাবে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দিয়েছে। স্বারাকে অনস্ক্রিনে হস্তমৈথুন করতে দেখা গিয়েছে। এসবকেই তিনি আপনারা কী নারীবাদ, মহিলাদের ক্ষমতায়ন বলে মনে করেন।

‘ভীরে দি ওয়াডিং’ দিয়ে বলিপাড়ার কাচের দেওয়াল ভাঙছে। এতোদিন ছেলেদের বন্ধুতা নিয়ে একাধিক ছবি তৈরি হয়েছে বলিপাড়ায়। ‘দিল চাহতা হ্যায়’ বা ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’-র মতো ছবি মন জয় করে নিয়েছে দর্শকদের। কিন্তু সে তুলনায় মহিলাদের বন্ধুত্বের কথা তেমনভাবে উঠে আসেনি। ছক ভেঙে সেই কাজটিই করেছে ‘বীরে দি ওয়েডিং’। যে ছবি নিয়ে নাক সিঁটকাচ্ছে বেশির ভাগ মানুষটি। মহিলাদের নিজস্ব পৃথিবীকে অন্তরালেই রাখতে চাইছেন তাঁরা।

আসলে পর্দার পিছনে থাকা মেয়েদের কাহিনি ফুটে উঠেছে পর্দায়। যার একটি দৃশ্য তিনি বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। যে সিনে স্বরার চরিত্রটি চরম সুখের জন্য ভাইব্রেটর ব্যবহার করছে। আর ঠিক এই দৃশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নানান মন্তব্যে জর্জরিত নায়িকা।

সোশ্যাল মিডিয়া এক ব্যক্তি স্বরাকে টুইটে জানিয়েছেন, তিনি তার ঠাকুমাকে নিয়ে ছবিটি দেখতে গিয়েছিলেন। দৃশ্যটি আসামাত্র বিড়ম্বনায় পড়েন বর্ষীয়ান মহিলা।

পরে বেরিয়ে তিনি জানান, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি লজ্জিত। এরপরই নানা সমালোচনার আক্রমণ ধেয়ে আসে অভিনেত্রীর দিকে। এর আগে স্বরাকে নিয়ে কিছু কটাক্ষও হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এই প্রথম স্বরাকে কোনও ধনী মহিলার চরিত্রে দেখা গেল। কিন্তু সে তো নিরামিষ রসিকতা। সব ছাপিয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে স্বরার হস্তমৈথুনের দৃশ্যটি। কেউ কেউ এর বিরুদ্ধে চলে যান।

প্রশ্ন তোলেন, এরকম একটা দৃশ্য থাকার কি প্রয়োজনীয়তা? পালটা যুক্তি দেখিয়ে কেউ কেউ বলেন, এরকম গোঁড়া সংস্কারী মনোভাব নিয়ে এ ছবি দেখতে যাওয়ারই বা দরকারটা কী? তবে সমালোচনা হোক আর আলোচনা বক্স-অফিসে ভাল আয় করেছে ‘ভীরে দি ওয়াডিং’।

ভিরে দি ওয়াডিং,সিনেমা,বাণী ত্রিপাঠী