• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা নিলো রাবি ছাত্রলীগ

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:২১
রাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ‘শিবিরের সঙ্গে জড়িত’ থাকার অভিযোগ তুলে জিম্মি রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে ছাত্রলীগের একজন নেতা।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে মেস থেকে ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে তিন ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা হয়। পরে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সহায়তায় ওই দুইজনকে চিহ্নিত করা হয় এবং ভুক্তভোগীকে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. ওমর ফারুক। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়।

অপরদিকে, জড়িতরা হলেন- ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং ফার্সী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাফিউর রহমান। শাফিউর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। সে সোহরাওয়ার্দী হলের অবস্থান করে। আর নাঈম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, গত দুই দিন থেকে নাঈম ভাই আমাকে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করাবে বলে বলছিলো। তার সঙ্গে গেলে সে আমাকে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৯১ নম্বর কক্ষে শাফির কাছে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকে আমি শিবির করি বলে দাবি করে। আমি অস্বীকার করলে তারা আমাকে চড়-থাপ্পড় ও লোহার পাইপ দিয়ে মারতে থাকে। পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে তারা সিনিয়র নেতাদের কিছু জানাবে না বলে জানায়।

পরে তারা আমার পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা চাইলে আমার বড় ভাই বিকাশের মাধ্যমে বিশ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। টাকা পেয়ে তারা আমাকে ছেড়ে দেয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকিও দেয়।

পরে আমি বিষয়টি আমার জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমানকে জানায়। ঘটনাটি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু তাদের কাছ থেকে রাতের (৮ নভেম্বর) মধ্যে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিষয়টি স্বীকার করে শাফি বলেন, ফারুকের গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা তাকে শিবির সন্দেহে আটক করি। তবে টাকা নেওয়ার সঙ্গে আমি জড়িত নয়। টাকা নাঈম নিয়েছে। এ বিষয়ে নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে দাবি করলেও ঘটনাস্থলে কোন পুলিশকে দেখা যায়নি। প্রক্টর বলেন, ঘটনা শোনার পর আমি পুলিশকে জানিয়েছি। পরে শুনেছি ছাত্রলীগ বিষয়টি সমাধান করেছে।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ জানান, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে তারা হলে গিয়েছিলেন। টাকা আদায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হতে পেরেছেন। জড়িত দুইজনের মধ্যে যার কাছে টাকা সে এখনও পলাতক। তারা একজনকে ধরতে পেরেছে। তার মাধ্যমে দ্রুত ওমর ফারুককে টাকা ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে জানান ছাত্রলীগের দুই নেতা। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা শাফিউরকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানান তারা।

/পি.এস

রাবি,ছাত্রলীগ
apps