• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

জবি লাইব্রেরিতে বই নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৩৬ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৩৯
জবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ২৮০ আসন বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে এই ২৮০ আসনের অধিকাংশই প্রতিদিন খালি থাকে। শিক্ষার্থী সংকটে প্রতিদিনই ফাকা থাকে এই আসনগুলো।

লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারানোর পিছনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ লাইব্রেরিতে নেই পর্যাপ্ত বই। যে সমস্ত বই রয়েছে তার বেশিভাগই ছেড়া। কোনো কোনো বইয়ের মাঝ খান থেকে আবার পৃষ্ঠা উধাও। আবার লাইব্রেরিতে বাহিরের বই নিয়ে প্রবেশে রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। কোনো অবস্থাতেই বাহিরের বই নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

এতে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হাসান বলেন যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু নামে মাত্র একটি লাইব্রেরী রয়েছে কাজে কর্মে কোনো কিছুই নাই। নেই পর্যাপ্ত বই আবার বাহিরের নিজস্ব বই নিয়েও প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের লাইব্রেরিতে আসার প্রতি তাদের মনোবল পরিবর্তন করছে। তাই লাইব্রেরি এখন বেশিরভাগ সময় ফাকা থাকে।

বাংলা বিভাগের মাহবুব হাসান বলেন লাইব্রেরির কর্মচারীদের দূর ব্যবহারের কারণেও শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরীর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণীর একজন কর্মচারী একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সাথে যখন খারাপ ব্যবহার করে তখন সেই জায়গায় যাওয়ার আর মনোবল থাকে না৷ তাছাড়াও বাহিরে থেকে কভার পেজ সহ কোনো বই নিয়ে যেতে দেওয়া হয় না এই লাইব্রেরিতে। শুধু ফটোকপি দিয়ে তো আর সব পড়া হয় না।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের কৌণিক বলেন শিট ছাড়া আর কোনো কিছু নিয়েই লাইব্রেরিতে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ভেতরে মাঝে মাঝে বই খুজতে খুজতেই সময় চলে যায়। আবার যেসব বই পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে ছেড়া ফাটা থাকে। আমরা পরীক্ষার আগে শিট পড়ি সারাবছর তো আর শিট পড়া যায় না।

আইন বিভাগের আফসানা আখি বলেন লাইব্রেরী কার্ড জমা নিয়ে বই দেয় এর পরেও বই নিয়ে ঢুকতে দেয় না। বই সংকট, বাহিরে থেকে বই নিতে না দেওয়া,কর্মচারীদের দূর ব্যবহারের কারণ ছাড়া আরো একাধিক সমস্যা রয়েছে এই লাইব্রেরির। নেই আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য নেই পর্যাপ্ত জানালা। কর্মকর্তারাএসি রুমে থাকলেও রিডিং রুমে শিক্ষার্থীদের ভরসা বৈদ্যুতিক পাখা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লাইব্রেরিতে নেই খাবার পানির ব্যবস্থা, মেয়েদের নামাজের জায়গা। শিক্ষার্থীরা সাধারণত কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের টয়লেট ব্যবহার করলেও ক্যাম্পাস ছুটির পর সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়াও লাইব্রেরি কার্ড তৈরির বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। লাইব্রেরি সূত্রে জানা যায় শুধুমাত্র মঙ্গলবারই শিক্ষার্থীরা কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারে। এই নির্দিষ্ট দিনেও আবার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে সকল কাজ সম্পুর্ণ করতে বলা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সপ্তাহের অন্য কোনো দিন কার্ডের কাজ করা হয় না।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিনান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন আমি তিন বছর ধরে ঘুরছি একটা কার্ড করার জন্য । শেষ পর্যন্ত করতেই পারলাম না । কর্তৃপক্ষ সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটা দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘন্টা শুধুমাত্র আবেদনপত্র গ্রহন করে থাকে। দুর্ভাগ্য ক্রমে আমি যতবার গিয়েছি ততবারেই ওই সময় এর সন্ধান পাই নি। এই বছর এসে সঠিক সময় কোন দিনের কোন ঘন্টায় তা জানতে পারছি তবে ততদিনে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি। তাই ভাবছি আর কার্ড করে কি হবে।

লাইব্রেরির এই সকল সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লাইব্রেরিয়ান এনামুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উপযোগী করতে আমরা লাইব্রেরির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছি। বারবার বই ক্রয়ের চেষ্টা করা হলেও টেন্ডার ড্রপ হয়না। ফলে ডিপার্টমেন্টগুলোকে টাকা দেওয়া হয় কিন্তু তারা বেশিরভাগ বই সেমিনারের জন্য রেখে দেয়। বই সহজে পাওয়ার জন্য আমরা ক্যাটালগ বাদ দিয়ে সফটওয়্যার সিস্টেমে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ তাছাড়াও আমরা ডিজিটাল ভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু কম্পিউটার কেনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লাইব্রেরিতে যে বাজেট দেওয়া হয় এ বাজেটের থেকে আরো চার-পাচ গুন বেশি বাজেট প্রদান করলে আমরা লাইব্রেরির যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

লাইব্রেরির সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান লাইব্রেরিটি বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী নয়। আমরা বর্তমান লাইব্রেরিটিকে ই-লাইব্রেরিতে পরিণত করবো। এ লক্ষ্যে ৪০টি কম্পিউটার অর্ডার করা হয়েছে।’ তাছাড়া আমরা আমাদের নতুন ক্যাম্পাসে উন্নতমানের লাইব্রেরির জন্য আলাদা ভবন করা হবে। সেই সঙ্গে ৪-৫ হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে পড়তে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে।’

ওএফ

apps