• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

রাতভর নিখোঁজ তরুণীর দেহ মিলল পুকুরে

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

মামার বাড়ির পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে কালীপূজা দেখতে বেরিয়েছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরের দিন বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) একটি পুকুর থেকে মিলল তার দেহ। ভারতের কলকাতার আগরপাড়ার মহাজাতি নগরে এ ঘটনা ঘটে।

সায়নী শীল (১৮) নামে ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাকে। এক্ষেত্রে মহাজাতি নগরের এক তরুণের নাম জড়িয়েছে। বুধবার (৭ নভেম্বর) অনেক রাত পর্যন্ত তার সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল সায়নীকে।

খড়দহ থানার পুলিশ ওই তরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তে জানা গেছে, ওই তরুণের সঙ্গে ছিলেন তার আরও চার বন্ধু। তাদেরও থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সায়নী কী করে পুকুরে পড়লেন, সেটাই এখন প্রশ্ন পুলিশের কাছে।

সায়নীর বাড়ি সোদপুরের দেশবন্ধুনগরে। বাড়ির কাছেই একটি স্কুলে পড়তেন তিনি। তার মা সুচিত্রা শীল জানান, মঙ্গলবার সায়নী মামার বাড়িতে যান। বুধবার সকালের মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখনই তিনি মাকে জানিয়েছিলেন, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে পূজা দেখতে যাবেন। আর তার সঙ্গে মেয়ের কোনও যোগাযোগ হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে আগরপাড়ার তিন নম্বর মহাজাতি নগরে মামার বাড়িতে যান সায়নী। বুধবার সন্ধ্যায় আত্মীয়দের জানান, এলাকারই তিন বান্ধবীর সঙ্গে পূজা দেখতে যাবেন তিনি। তাদের সঙ্গে বেরোনোর কিছু ক্ষণ পরে সায়নী এক তরুণের সঙ্গে চলে যান বলে জানিয়েছেন ওই বান্ধবীরা।

যে তরুণের কথা বলা হচ্ছে, তার বাড়িও মহাজাতি নগরে। সায়নীর পরিচিতেরা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল ওই তরুণের। সায়নীর বাড়ি ও মামাবাড়ির লোকেরাও সে কথা জানতেন বলে সায়নীর বন্ধুদের দাবি। বুধবার অনেক রাত পর্যন্ত সায়নী বাড়ি না ফেরায় খোঁজ শুরু করেন তার পরিজনেরা। ওই বান্ধবীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, প্রথমে তাদের সঙ্গে বের হলেও পরে সেই তরুণের সঙ্গে চলে যান সায়নী।

সায়নীর বাড়ির লোকেরা বৃহস্পতিবার সকালে খড়দহ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এদিন সকালেই আগরপাড়া রেল স্টেশন সংলগ্ন পাঁচ নম্বর রেলগেটের কাছে একটি পুকুরের পাড়ে এক জোড়া জুতা এবং একটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকেরা এসে সেগুলো সায়নীর বলে শনাক্ত করেন। খড়দহ থানার পুলিশ এসে সেগুলি নিয়ে যায়। দুপুরের পরে সায়নীর খুজে পুকুরে ডুবুরি নামানো হয়। তারাই দেহটি তুলে আনেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন চোখে পড়েনি। পুকুরে পড়ে যাওয়ার পরে সায়নী পানি গিলে ফেলেছেন বলেও মনে হয়নি পুলিশের। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে মৃত্যু হল সায়নীর? তিনি যদি পা পিচলে পুকুরে পড়ে গিয়ে থাকেন, তা হলে তার দু’টি জুতা কীভাবে পুকুরপাড়ে পড়ে রইল? তা হলে কি জুতা খুলে পুকুরের ধারে বসেছিলেন তিনি?

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণ দাবি করেছেন, রাতে তিনি এবং তার আরও তিন বন্ধুর সঙ্গে বসে মদ্যপান করেছিলেন সায়নী। রাত দুইটার দিকে তারা সায়নীকে তার মামাবাড়ির গলি পর্যন্ত পৌঁছেও দেন।

ওই পুকুরপাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাত ২টা পর্যন্ত কয়েকজনকে ওই পুকুরের ধারে দেখা গিয়েছিল। ওই তরুণদের বয়ান ঠিক হলে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি আরও বেশি রাতে আর কারও সঙ্গেও দেখা হয়েছিল সায়নীর?

তরুণ পুলিশকে আরও জানান, তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজনের সঙ্গে সেই রাতে সায়নীকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল।

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডি সি (‌জোন ২) আনন্দ রায় বলেন, বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুমানের ভিত্তিতে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার হবে।

/অ-ভি

নিখোঁজ,তরুণী,দেহ,মিলল,পুকুর,ভারত,কলকাতা
apps