• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জটিলতা নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলছে

প্রকাশ:  ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:২২
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
প্রিন্ট

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জটিলতা অবসান নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলছে ।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা থেকে চলছে দু, দেশের ওয়াকিং কমিটির এ বৈঠক। বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৪টায় যৌথ কমিটির কর্মকর্তারা প্রেস-ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে কিভাবে কোন পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ চলবে।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মন্ত্রণালয়ের পলিসি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি এমডিএম. বেট্টী হাসানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- মালয়েশিয়ার পেনিনস্যুলার ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জেনারেল (অপারেশন) মি. আসরি এ বি রহমান, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের আন্ডার সেক্রেটারি জমরি মত জিন। হিউম্যান রিসোর্স মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল ডিভিশনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজর মো. নওয়ায়ী ইসমাইল, হিউম্যান রিসোর্স মন্ত্রণালয়ের পলিসি ডিভিশনের সহকারী সচিব শাহাবুদ্দিন আবু বকর ও মালয়েশিয়ার পেনিনস্যুলার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নওরলিয়া আনাক জওয়র এবং হাই কমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম, শ্রম কাউন্সিলর মো: সায়েদুল ইসলামসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্মী নিয়োগের জন্য দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন পদ্ধতি চালু করার জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। এতে বিষয়টি জোরালোভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশ আশা করছে, এই বৈঠকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতার অবসান ঘটবে।একতরফা ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠার পর ১লা সেপ্টেম্বরের পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বাতিল করে দেশটি। বাংলাদেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি একচেটিয়াভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাত। জিটুজি প্লাসের (বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের যুক্ত করে সরকারি ব্যবস্থাপনা) আওতায় এসপিপিএ নামে অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় এত দিন কর্মী পাঠিয়ে আসছিল বাংলাদেশ।

এই প্রক্রিয়া বাতিল করার পর থেকে নতুন করে কর্মী নিয়োগের কোনো অনুমতিপত্র দেয়নি দেশটি। তবে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কাজের অনুমতি পাওয়া বাংলাদেশিদের নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দুই দেশের মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার নতুন করে কর্মী নিয়োগে রাজি হয় মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে কর্মী নিয়োগের নতুন পদ্ধতি ঠিক করার বিষয়ে সম্মত হয় দুই দেশের সরকার। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দেড় মাসে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন।

তাদের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই গেছেন ১৬ হাজার ২৬১ জন। গত দেড় মাসে যাওয়া লোকজনের সবাই ১ সেপ্টেম্বরের আগে কাজে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের । এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পুত্রজায়ার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল । বাংলাদেশের বৈধ সব জনশক্তি রপ্তানিকারক । মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে। তবে নতুন কোনো পদ্ধতি চূড়ান্ত হওয়ার আগে অনলাইন এবং সনাতন পদ্ধতির সংমিশ্রণে অন্তরবর্তীকালীন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া।

এদিকে অনৈতিক এবং একচেটিয়াভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি বাতিল করে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন মালয়েশিয়ার নতুন সরকার। দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করে যখন এ সমস্যা সুরাহার জন্য ব্যস্ত, ঠিক এ সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগের সেই সিন্ডিকেট। ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার । সাবেক এক সভাপতির নেতৃত্বে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন ছাড়াই কাজের চাহিদাপত্র অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

এর পাশাপাশি মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদেরই নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দিতে মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে বায়রার সাবেক এক সভাপতি এ বিষয়ে কথা বলতে মালয়েশিয়ার এক ব্যবসায়ীকে নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বলে জানা গেছে। সিন্ডিকেটের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের চাহিদাপত্রে সত্যায়নে (মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়) স্বচ্ছতা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে মালয়েশিয় । ঢাকার বৈঠকে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্রে সত্যায়নের বিষয়ে মালয়েশিয়া জোর দেবে বলে আগে থেকেই ঢাকাকে জানিয়ে আসছিলেন দেশটির কর্মকর্তারা।

/পি.এস

মালয়েশিয়া,কমিটি
apps