• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

মালয়েশিয়ায় ১০ মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায়

প্রকাশ:  ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৩
আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া
প্রিন্ট

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে কর্মীদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রচেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সক্রিয় আইনি সহায়তায় চলতি বছরের ১০ মাসে ২ কোটি ৪১ লাখ ৭৬ হাজার ৮১৫ টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে যে সকল বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়া গেছে তারা হলেন- আব্দুল্লাহ (পাসপোর্ট নং- বিই ০২৮৩৬৪৭), আমির হোসেন (পাসপোর্ট নং-বিএল ০৩৭৮৮০৩), মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন (পাসপোর্টনং এ-ই১৭৮০৯৭৬),আবুল কাসিম (পাসপোর্ট নং-এফ০০৯১৬৮৬), মনিরুল ইসলাম (পাসপোর্টনং-এফ০৬৪৭২৩), মৃত সুরুজ শেখ (পাসপোর্টনং- এফ ০৩৩৭৭০৮), মো. তরিকুল ইসলাম (পাসপোর্ট নং- এফ ০০৮০৬৫৮), মো. কান্চন মিয়া (পাসপোর্টনং- বিবি০১৭২৬৯৩)।

তবে সেদেশে বাংলাদেশিরা কর্মরত অবস্থায় বকেয়া, দুর্ঘটনা, মৃত্যু ও ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণ আদায়ে দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা কাজ করলেও বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনিক ধীরগতি ও হয়রানিসহ নানা কারণে বেশিরভাগ শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে দুই বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিপূরণ পায়নি বরিশালের মৃত ফজলু দফাদারের পরিবার। অভিযোগ উঠেছে দফায় দফায় প্রবাসী কল্যাণ অফিসে ধরনা দিয়েও ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন না মৃতের পরিবার।

অভিযোগে জানা যায়, বরিশাল সদরের চরবুখাই নগর গ্রামের আছমত আলী দফাদারের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মৃত ফজলু দফাদার পাসপোর্টনং (এফ-০৪৭৬৩৬৫) সিলনং-১২, ক্লেইমনং-৯৬/২০/৬,তারিখ: ০৭/১১/২০১৭, তার মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ হাইকমিশন থেকে মৃতের স্ত্রী চার কন্যার নামে পাঁচটি ড্রাফ্ট প্রেরণ করা হয়। মৃতের পরিবার ডিইএমও বরিশাল হতে ড্রাফ্ট গ্রহণের পর বরিশালের বিভিন্ন ব্যাংকে ড্রাফ্ট সমূহ জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, ড্রাফ্টগুলো ভাঙ্গানো যাবে না। পরবর্তীতে মৃত ফজলু দফাদারের পরিবার ঢাকাস্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংক, শান্তি নগর শাখায় জমা প্রদান করতে গেলে ড্রাফটের মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান। ফলে মৃতের স্ত্রী শাহানূরের নামে একক চেক পাওয়ার জন্য পাওয়ার অব এটর্নিসহ মূল ড্রাফ্ট পাঁচটি ডিইএমওর মাধ্যমে হাইকমিশনে শ্রম কাউন্সিলরে ফেরত পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত দূতাবাস ক্ষতিপূরণের সুরাহা করতে পারেনি বলে এ প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জানান মৃত ফজলু দফাদারের স্ত্রী শাহানূর।

এ বিষয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে শ্রম শাখার কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিপূরণের চেক সময় মত তারা ব্যাংকে জমা না করায় এ সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমাধানের।

দূতাবাস সুত্র জানায়, হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ও তার সার্বিক দিক-নির্দেশনায় আইনি সহায়তায় দুর্ঘটনা, বকেয়া বেতন, মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ আদায়বাবদ নিয়মিত চেক দূতাবাস থেকে পাঠানো হলেও বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাশিত ব্যক্তিদের নিকট হস্তান্তরে সময় শেষ হয়ে যায়। ফলে চেকটি নগদায়নে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

চেকটি পুনরায় মালয়েশিয়াতে ফেরত পাঠানো হয় এবং নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রম অফিসের মাধ্যমে পেতে অনেক সময় লাগে। শুধু তাই নয়, সে দেশের শ্রম অফিসের কর্মকর্তারা মনোক্ষুন্ন হন। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশীরা একের পর এক দায়-দেনার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

এ বিষয়ে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর, অতিরিক্ত সচিব মো: সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা বকেয়া বেতন ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ ছাড়া, যাদের বৈধতা রয়েছে এবং কাগজপত্র সঠিক তারাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। আর এই ক্ষতিপূরণ আদায়ে দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা করে থাকে। বাংলাদেশি কর্মীরা ক্ষতিপূরণ পেতে যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

/পি.এস

মালয়েশিয়া,ক্ষতিপূরণ আদায়
apps