• বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮, ৯ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

রমজানে অশালীন পোশাক পরায় চাকরি গেল উপস্থাপিকার

প্রকাশ:  ১৪ জুন ২০১৮, ২২:৩৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

রমজান চলছে, তারই মাঝে অশালীন পোশাক পরার অপরাধে চাকরি গেল এক টেলিভিশন উপস্থাপিকার৷ সেদেশের মুসলিমদের তিনি অপমান করেছেন এই ইস্যুতে অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁকে বরখাস্ত করা হয়৷

এই ঘটনাটি ঘটেছে কুয়েতের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কুয়েত টেলিভিশনে৷ অন এয়ার অর্থাৎ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হওয়ার সময়েই তাঁকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গিয়েছে৷ তাঁর পোশাক বিতর্ক আগুন লাগিয়েছে নেটিজেনদের মধ্যেও৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে বিতর্কের ঝড়৷

উপস্থাপিকা আমল আল আওয়াধি যে পোশাকটি পরেছিলেন, তাতে সর্বাঙ্গ ঢাকা থাকলেও, বেশ আঁটোসাঁটো ছিল, দেখা যাচ্ছিল বক্ষ বিভাজিকাও৷ এতেই বিতর্ক চরমে ওঠে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রচার হওয়ার সময় আসতে থাকে একের পর এক ক্ষুব্ধ কমেন্ট৷

বিতর্ক এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে তা পৌঁছয় কুয়েতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে৷ বিতর্ক থামাতে মন্ত্রক থেকে জানতে চাওয়া হয় কেন এই ধরণের পোশাক পড়ে টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছিলেন তিনি৷

শেষে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার মিনিট খানেক আগে, ঘোষণা করা হয় আল আওয়াধিকে চ্যানেল থেকেই ছেঁটে ফেলা হচ্ছে৷ ওই অনুষ্ঠানেই এই ঘোষণা করা হয়৷

বিতর্কের সূত্রপাত ইনস্টাগ্রামে তাঁর পোশাকের বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি দেওয়াকে কেন্দ্র করে৷ সেখান থেকেই সমালোচনার ঝড় শুরু হয়৷ বেশ কয়েকজন দর্শক এই পোশাককে রীতিমতো অশ্লীল ও অশালীন বলে ব্যাখ্যা করেন, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিও চান৷ পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন কেন এই ধরণের পোশাক পরা হবে, তার কৈফিয়ৎ চাওয়া হয়৷

তবে এই বিষয় স্বীকার করেছেন আল আওয়াধি৷ তার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি৷

এরআগে, টিভিতে লাইভ সম্প্রচারের সময় পুরুষ সহকর্মীকে ‘হ্যান্ডসাম’ বলে বসেন কুয়েত টিভির এক সঞ্চালিকা। তাই শেষমেশ চাকরিই খোয়াতে হয় সেই সঞ্চালিকাকে। একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছিলেন বাসিমা আল-শামার নামে ওই সঞ্চালিকা। সংবাদ সংস্থা আল আরবিয়া ইংলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রচার চলার সময় স্থানীয় রিপোর্টার নওয়াফ অল-শিরাকির সঙ্গে কথোপকথন শুরু হয় বাসিমার। তখনই তাঁকে হ্যান্ডসাম বলেন বাসিমা৷

গোটা ঘটনাকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে বাসিমাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে কুয়েতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। বিধায়ক মহম্মদ অল-হায়াফ টুইটারে লেখেন, একজন সরকারি টিভি চ্যানেলের সঞ্চালিকার এই ধরনের মন্তব্য কখনওই শোভনীয় নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।