• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্প-কিম

প্রকাশ:  ১২ জুন ২০১৮, ০৯:৪৩ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৮, ১০:৩৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন করমর্দনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ জুন) ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের হোটেল দ্য ক্যাপেলোতে এই বৈঠক শুরু হয়।

এ সময় বৈঠক সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা অসাধারণ একটি আলোচনায় বসতে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি, এটি সফল হবে।

কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পেরে ট্রাম্প নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক হতে যাচ্ছে চমৎকার, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এ সময় কিম বলেন, আজকের এই বৈঠকে আসার পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরোনো পূর্বধারণা ও অভ্যাস আমাদের অগ্রগতিতে বাধা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু, আমরা সেসবকে পরাজিত করে আজ এখানে আসতে পেরেছি।

বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা জন কেলি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে, কিম জং উন ছাড়া তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো এবং কিমের ডান-হাতখ্যাত ইয়ং-কোল উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে কোরিয়ান উপদ্বীপে স্থায়ী এবং টেকসই শান্তি ব্যবস্থা ও পারস্পরিক উদ্বেগের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এবং সম্মেলনে দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থার ইতি টেনে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিও সই হতে পারে।

বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে রাতে সিঙ্গাপুর ছাড়বেন তিনি। বিরল এ বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াই হাজার সাংবাদিক ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন।

বৈঠকে যোগ দিতে গত রোববার দুই নেতা সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার পৃথকভাবে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পিয়ংইয়ং এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলো পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করবে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করলে উল্টো ফল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অবশ্য ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এক বৈঠকেই পরমাণু বিষয়ে সমঝোতা হবে না। যদিও এর আগে তিনিই বলেছেন, বৈঠকে বসার এক মিনিটের মধ্যে তিনি বুঝে যাবেন কী হতে চলেছে।

আন্তর্জাতিক,ঐতিহাসিক বৈঠক,ট্রাম্প-কিম